ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যবিধি মানুন

কভিড সংক্রমণের উচ্চ হারের ফলে দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। আরোপ করা হয়েছিল ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এ কারণে অনেকটা সময় মানুষ পরিবার-পরিজন, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাননি। তবে করোনা সংক্রমণের হার কমতে থাকায় দীর্ঘ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন স্থান ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। শীতকাল অধিকাংশ মানুষের বেড়ানোর আদর্শ মৌসুম হলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ঘরবন্দি মানুষ বেরিয়ে পড়েছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলো উপচে পড়ছে পর্যটকদের ভিড়ে। কিন্তু বেড়াতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা হচ্ছে? দেখা যাচ্ছে, ঘুরতে যাওয়া মানুষদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতা সম্পর্কে জানা থাকা দরকার।

মৌসুমি রোগ বাড়ছে: প্রায় এক বছর পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রায় খালি ছিল। বেশিরভাগ মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর ছেড়ে কোথাও যাননি। কাজের কারণে বাড়ি ছাড়লেও গতিবিধি সীমিত রেখেছেন, মাস্ক পরেছেন, কিংবা বেশি ভিড় দেখলে এড়িয়ে চলেছেন। মাস্ক পরা, হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং বাইরের খাবারদাবার এড়িয়ে চলার কারণে গত বছর মৌসুমি রোগগুলোও কমে গিয়েছিল। কমেছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগ। কিন্তু এ বছর রোগগুলো আবার বাড়ছে। তার মানে এটি প্রমাণিত যে আমরা চাইলে বা সতর্ক থাকলে মৌসুমি রোগ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। করোনাভাইরাসের জন্য যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়, তার উপকারিতা মেলে যেকোনো ধরনের জীবাণু রুখতেই। তাই হাইজিন বা স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো মেনে চললে নিজেরই উপকার।

কী করবেন: বেড়াতে যাওয়ার সময় যানবাহনে বা পর্যটনকেন্দ্রে মাস্ক পরে থাকতে হবে। কেবল করোনা নয়, সাধারণ ফ্লুসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ থেকে রক্ষা করবে মাস্ক। এবার গরমের মধ্যেই সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন ও হাওরে ঘোরাঘুরির কারণে ফিরে এসেই ঠাণ্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ফ্লু–জাতীয় উপসর্গে ভুগছেন অনেকে। মাস্ক পরা থাকলে এসব রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ঠিক একইভাবে বারবার হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাস ফ্লু থেকে তো বাঁচাবেই, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগও রুখতে সাহায্য করবে। কারণ ময়লাযুক্ত হাত থেকেই এসব রোগ ছড়ায়। খাবারদাবার থেকেও সাবধান থাকুন। (বাকি অংশ আগামীকাল)

অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ আরাফাত

চেয়ারম্যান, মেডিসিন অনুষদ

বিএসএমএমইউ, ঢাকা

সর্বশেষ..