মগবাজারে বিস্ফোরণ নেপথ্যে কী?

পাঠকের চিঠি

২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে আশেপাশের বেশ কয়েকটি ভবন এবং কয়েকটি যাত্রীবোঝাই বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে আরও তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গ্যাসজাতীয় কোনো কিছু থেকে বিস্ফোরণের ঘটতে পারে। আহত হয়েছেন ৬০ জনের অধিক।’ বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে সম্পর্কে গত ২৭ জুন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যদি জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা থাকত, তাহলে ঘটনাস্থলে স্পিøøন্টার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত এবং মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত। এ বিস্ফোরণ গ্যাস চেম্বার থেকে হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কাজ করছে।’

দেশে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে, কিন্তু আমরা সচেতন হচ্ছি না। এ ধরনের ঘটনা ঘটার আগে আমরা নীরব থাকি। আর ঘটনা ঘটলেই আমাদের ঘুম ভাঙে। কিন্তু আগে থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কারণ কী, কেন ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা সচেতন হই না। ফলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়, আর শত শত মানুষের প্রাণ যায়।

গত ২৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে বিস্ফোরণে তিন মাসের শিশুসহ দুই পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হয়েছিলেন। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছিল গ্যাসের চুলার লিকেজে জমে থাকা গ্যাসের জন্য ওই দিন শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধ লোকজনের মধ্যে শিশুসহ পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। বাকিদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। বিস্ফোরণ এতই গুরুতর ছিল যে এতে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের দুটি দেয়াল উড়ে গিয়ে পাশের ভবনের ছাদে পড়েছে, ভেঙে গিয়েছিল ভবনের দরজা-জানালার কাচ।

এরপর চলতি বছর ৭ জুন পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় গ্যাস বিস্ফোরণে হঠাৎ প্রধান সড়কটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিকালের এই বিস্ফোরণে ৯ পথচারী আহত হন। তাদের মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলেছে, সড়কের নিচে পয়োনালার (স্যুয়ারেজ) পাশে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে গিয়ে জমে ছিল। সেই গ্যাসের চাপেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের একটি বাড়িতে গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণে দেয়ালধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ২৩ জুলাই। বিস্ফোরণের আগুনে শিশুটির মা, বাবা ও বোন দগ্ধ হন।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস বিস্ফোরণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হচ্ছে অসচেতনতা। কারণ সচেতনভাবে গ্যাস লাইন ব্যবহার করলে বিস্ফোরণের হার কমে আসত। গ্যাস লাইন ব্যবহার করার ব্যাপারে সবার সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তাই যেসব কারণে বিস্ফোরণ হচ্ছে, সেসব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। যেমন এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস খুব বেশি চাপে তরল করে প্রবেশ করানোর ফলে এটির বিস্ফোরণও খুব মারাত্মক হয়, যা এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। এর বিস্ফোরণ হলে শকওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে। এ শকওয়েভ শরীরের যে অংশে লাগে, সে অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। 

১. সিলিন্ডারের লিকই মূল সমস্যার কারণ। সিলিন্ডারে যদি লিক হয়, তাহলে গ্যাস ভাল্ভ, হোসপাইপ কিংবা রেগুলেটর ইত্যাদি লিক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। ২. মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারে যদি উচ্চ চাপে গ্যাস ঢোকানো হয়, তবে ওই সিলিন্ডার গ্যাসের চাপ রক্ষা করতে না পেরে বিস্ফোরিত হয়ে যায়। ৩. কোনোভাবে যদি আগুন বা উচ্চ তাপ সরাসরি সিলিন্ডারের সংস্পর্শে আসে, তাহলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে। ৪. নি¤œমানের সিলিন্ডারও বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে বিস্ফোরণের হার কমে আসবে, তাই সবাই সতর্ক হই। করোনার পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা মানুষের জীবনে এক অন্যরকম আতঙ্কের নাম। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।

কবিতা রানী মৃধা

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২  জন  

সর্বশেষ..