সুশিক্ষা

মজার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস

সবুজ ছায়ায় ঘেরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তিযুদ্ধ শেষে একজন শিক্ষার্থী এ সবুজ ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পান। পরে সব শিক্ষার্থী এ সবুজের মায়ায় জড়িয়ে পড়েন। কৃষক ও মাটির যোগসূত্র যেহেতু কৃষি, তাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সব শিক্ষার্থীর বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয় মাটির সঙ্গে। এখানে তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি সব বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনে সামর্থ্য হন। তাইতো নতুন শিক্ষার্থীরা মাটির সঙ্গে সম্পর্ক করতে নেমে পড়েছেন মাঠের কাজে। তাদের এ অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেছেন তানিউল করিম জীম

শিক্ষার্থীরা বলেন, সেদিন ছিল আমাদের হর্টিকালচারের (উদ্যানবিদ্যা) ব্যবহারিক ক্লাস। আমাদের গ্রুপে ছিলেন ২০ শিক্ষার্থী। সিডবেড কি, কীভাবে তৈরি করতে হয় ও সিডবেডের প্রয়োজনীয়তার ওপর ক্লাস নেন প্রভাষক তামান্না তাছমিম ম্যাম। ম্যামের নির্দেশ অনুযায়ী সবাই কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সিডবেড তৈরি করে। সিডবেড হলো নতুন চারা গাছ জš§ানোর উপযুক্ত মাধ্যম। সতেজ ও রোগমুক্ত চারা গাছের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমাদের বন্ধু জাকিয়া ও শরিফের আগ্রহটা ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা কোদাল হাতে চলে যায় মাঠে সিডবেড তৈরি করতে। অন্যরা প্রথমে একটু ইতস্তত বোধ করলেও পরে ম্যামের নির্দেশে মাঠে নামে।

কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি আলগা করে শরিফ, সায়েম, আশরাফুল ও মামুন। মোহনা ও মীম পরে জাকিয়ার সঙ্গে মাটি থেকে আগাছা, নুড়ি, পাথর পরিষ্কার করতে থাকে। মামুন ও শরিফ সিডবেডের দু’পাশে মাটি কেটে নালা তৈরি করে। এ মাটি দিয়ে পরে বেডটি উঁচু করা হয় যেন পানি না জমে। পরে বেডকে একটি আয়তকার আকারের রূপ দেওয়া হয়। কাজ শেষে সবার মনে ভালো লাগা কাজ করছিল। সত্যিই, মজায় মজায় আমরা একটি সিডবেড তৈরি করলাম।

পরের ক্লাসে এ বেড়ে বীজ রোপণ করা হবে। মনে হচ্ছিল এক ঘণ্টার জন্য আমরা সবাই কৃষক হয়ে গেছি! একই সঙ্গে কৃষকের কষ্টও কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম সেদিন। ক্লাস শেষে বিকালে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল জব্বারের মোড়ে এক সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। মোহনা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, আজ এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করেছে। কোনোদিন এভাবে মাটির সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর এ প্রথম মাটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। বেশ ভালো লাগছিল। মাটির একটা আলাদা গন্ধ রয়েছে, যা সবার মন বশ করতে পারে। তা আজ বুঝতে পেরেছি মাটি থেকে আগাছা পরিষ্কারের সময়। আমি মনে করি, কৃষিবিদরা মাটির যত কাছাকাছি থাকবেন, বাংলার কৃষি ততই উন্নত হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..