নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। সংগঠনটি ওষুধ, শিক্ষা সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি এই প্রস্তাবনাসহ ৩৭ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। ৩৭ দফা প্রস্তাবনায় ইআরএফ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে এমএফএসের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর ফেরতের ব্যবস্থা করা এবং যাদের করযোগ্য আয় নেই, তাদের ব্যাংক সুদের ওপর কর্তিত কর ফেরত প্রদান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণে করহার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখা।
এছাড়া দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে পৃথক রাজস্বনীতি প্রণয়ন এবং সহজে বন্ড সুবিধা প্রদান। ব্যক্তি করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০-৩৫ শতাংশ নির্ধারণ। ভ্যাটের একক হার সাত শতাংশ নির্ধারণ। বাজার মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদের কর আদায়। প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার করহার কমানো। এনবিআর ভবনে একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন। ইআরএফ-এনবিআর রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড চালু করা।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, সারা দেশে পাঁচতলা বা তার অধিক উচ্চতার সব ভবন মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে কর নেটের আওতায় আনা। অর্থাৎ পাঁচতলা বাড়ি থাকলেই তার জন্য কর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে উচ্চমূল্যের জ্বালানি থেকে রাজস্ব আহরণও বাড়ছে। এ অবস্থায় জ্বালানির আমদানি ব্যয় সহনীয় রাখতে বাড়তি রাজস্ব আহরণ ছাড় দেওয়া যেতে পারে। দেশে উৎপাদিত অবৈধ সিগারেট থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অবৈধ সিগারেট উৎপাদকদের করের আওতায় আনা অথবা সেগুলো বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলেও দাবিতে জানানো হয়েছে।
দাবিতে আরও জানানো হয়েছে, এনবিআরের তিনটি বিভাগের জন্য পৃথক হেল্পলাইন চালু। কাস্টমসের টাইম রিলিজ স্টাডির মতো আয়কর ও ভ্যাটে একই ধরনের স্টাডি পরিচালনা। করছাড় প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ক্ষতির প্রাক্কলন প্রকাশ। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি শুল্ক কাঠামো ধীরে ধীরে কমানো।
আরও বলা হয়েছে, অনিবাসীদের সেবার ওপর উৎসে করহার পুনর্বিবেচনা। গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগ আধুনিকায়নে বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ। ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ও মুনাফার কর হ্রাস বা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যাহার। ঋণ অনুমোদনের আগে এনবিআর ডেটাবেজ থেকে ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা।
এছাড়া দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, করযোগ্য জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জাতীয় জরিপ পরিচালনা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ। ট্রান্সফার প্রাইসিং আইনের কার্যকারিতা জোরদার করে অর্থ পাচার রোধ। পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহে করপোরেট করের ব্যবধান কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ রাখা। দেশে কোটি টাকার ওপর অ্যাকাউন্টহোল্ডার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কর পরিশোধ করছে কি না, তা যাচাই করা।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post