সারা বাংলা

মনিরামপুরে এক মাদরাসারই ২০ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে!

প্রতিনিধি, যশোর: করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার মধ্যেই যশোরের মনিরামপুরে এক মাদরাসারই ২০ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। উপজেলার পাড়িয়ালি আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির এসব ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয় ১০ মাসে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির দুজন, সপ্তম শ্রেণির চারজন, অষ্টম শ্রেণির ছয়জন, নবম ও দশম শ্রেণির চারজন করে শিক্ষার্থী রয়েছে।

মাদরাসাটির সুপার আবদুল হালিম গতকাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, বাল্যবিয়ের খবর প্রশাসনকে দিয়ে তেমন কোনো ফল আসে না। তাই করোনার বন্ধে ছাত্রীদের বিয়ের ব্যাপারে টের পেলেও প্রশাসনকে খবরগুলো জানাননি তিনি।

জানা গেছে, করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসচেতন অভিভাবকরা মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। বাড়িতে বিয়ে দিলে সমস্যা হবে ভেবে তারা বাইরের এলাকায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে জানান মাদরাসাটির শিক্ষকরা।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক অম্বরীশ রায় বলেন, ‘আমাদের দশম শ্রেণির ঋতু নামে এক ছাত্রীকে স্বজনরা পুলেরহাট এলাকায় আত্মীয়র বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বাইরের এলাকায় হওয়ায় আমরা খবর পেয়েও কিছু করতে পারিনি।’

মাদরাসার সুপার আবদুল হালিম বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক স্তরে ১৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। করোনার বন্ধে কয়েকজন ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার খবর পাচ্ছিলাম। আমরা প্রতিষ্ঠানে নেই বলে খবর নিতে পারিনি। গত ১ নভেম্বর অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার জন্য মাদরাসা খোলা হয়। এরপর কয়েকজন ছাত্রী না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তখন হিসাব নিয়ে দেখি, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের বিয়ে হয়েছে।’

এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘করোনার বন্ধে কতজন ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে, তেমন কোনো তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা আমাদের জানাননি। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’ মনিরামপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘গত ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ১৭টি বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে সবগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু পাড়িয়ালি বালিকা দাখিল মাদরাসার ছাত্রীদের বিয়ের ব্যাপারে মাদরাসার সুপার আমাদের কোনো খবর দেননি। যে কারণে ওই বিয়েগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..