স্পোর্টস

মনে হয়েছিল যেন জেলখানায় আছি : মিরাজ

ক্রীড়া ডেস্ক: নিউজিল্যান্ড সফরে গত বুধবার পৌঁছানোর পর থেকেই একরকম বন্দি জীবন পার করছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টানা ৪৮ ঘণ্টা কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমরা। যে যার রুমেই অবস্থান করছিলেন। ঐ সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজের মনে হয়েছিল যেন জেলখানায় রয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সরবরাহকৃত ভিডিওবার্তায় ব্যাপারটি জানিয়েছেন এ অলরাউন্ডার।

আপাতত ক্রাইস্টচার্চের শ্যাডো বাই পার্ক হোটেলে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে গত শুক্রবার করোনা পরীক্ষায় সুখবর পেয়েছে টিম টাইগার্স। তবে এখনও তারা অনুশীলনের সুযোগ পাননির। করোনাভাইরাস সব দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এমন অবস্থায় সময়টা অবশ্য ভাল কাটছে না। রোববার এ ব্যাপারে মিরাজ জানিয়েছেন, ‘বুঝতেই পারছেন কীরকম কাটছে। এই প্রথম হোটেলের ভেতর এরকম পাঁচটা দিন কাটিয়েছি। প্রথম দিকে সময় কাটছিল না। কারও সঙ্গে দেখাই হয়নি। প্রথম তিনদিন তো কারও সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। ফোনে-ফোনে কথা হয়েছে সবার সাথে, ভিডিও কলে কথা হয়েছে রুম টু রুম। প্রথমদিকে বোরিং লাগছিল, সময় কাটছিল না। এখন যেহেতু পাঁচদিন কেটে গেছে, আশা করি আরও তিনদিন কেটে যাবে।’

টানা দুই দিন বন্দি থাকার পর বের হওয়ার সুযোগ মেলে টাইগারদের। সে সময় থেকে সতেজতা কাজ করেছে জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘যখন বাইরে বের হলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলাম, তখন ভালো লেগেছে। পরে যখন রুমে ফিরে গেছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে। সারাদিন রুমে থাকতে তো আর ভালো লাগে না। তিন-চারদিন রুমে কাটানো, একইভাবে… এটা আসলে একটু আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। এই যে ত্রিশ মিনিটের জন্য বাইরে আসতে দেয়, এটা ভালো লাগে যখন রুমে(ফিরে) যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম তিনদিন তো রুমের ভেতরেই ছিলাম। তারপর আধাঘণ্টা করে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছি সবাই। আমি যখন প্রথম যেদিন বেরিয়েছিলাম গত কালকে, শুরুর দিকে মাথা একটু ঘুরতেছিল। তারপর আস্তে আস্তে ১০-১৫ মিনিট পর ঠিক হয়ে গেছিল। আমি মনে করি যে, তিনদিন যে ঘরের ভেতর যে বন্দি ছিলাম, আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে যে জেলখানায় আছি বা হতাশা আছে, এরকম একটু ফিল হচ্ছিল। বাট যখন বাইরে বেরিয়ে আসলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে এডজাস্ট হলাম, তখন একটু ভালো ফিল হয়েছে। যখন রুমে গেছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে। আজকেও রোববার যখন আধঘণ্টার জন্য বের হতে পেরেছি… সারাদিন রুমে থাকতে তো আর ভালো লাগে না। দেখেন তিন-চারদিন রুমে কাটানো, একইভাবে এটা আসলে একটু আমাদের জন্য আনকমফর্টেবল। এই যে ত্রিশ মিনিটের জন্য বাইরে আসতে দেয়, এটা ভালো লাগে যখন রুমে যাই।’

এখনও কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ হয়নি বাংলাদেশ দলের। এ অবস্থা থেকে তারা মুক্তি পাবেন আরও ছয়-সাতদিন পর। মিরাজ আশা করেন তখন সব ঠিক হয়ে যাবে, ‘ছয়-সাতদিন পর যখন আমরা জিম এবং মাঠে যেতে পারব, তখন আমাদের ভালো লাগবে। এখন হয়তো সময়টা কাটছে না। জিমের ফ্যাসিলিটিজ বা আমরা যদি কিছু ওয়ার্ক করতে পারতাম, তাহলে আমাদের জন্য সহজ হতো, সময়টা কেটে যেত, বডি ফিটনেস ভালো হতো। যেহেতু অপর্চুনিটি নেই, দুই-তিনদিন পর স্টার্ট হবে। আশা করি তখন ইনশাআল্লাহ্‌ ভাল হবে।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী ২০ মার্চ থেকে মাঠের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের পরের দুই ওয়ানডে ২৩ ও ২৬ মার্চ। এরপর স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি খেলবে টিম টাইগার্স। যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৮, ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..