সম্পাদকীয়

মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে সমন্বয় নিশ্চিত হোক

আধুনিক যুগে অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে সহজে ব্যবসা সূচক বা ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে ইতিবাচক থাকতে হয়। এটি ছাড়া উন্নতির আশা করা অর্থহীন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ উন্নয়নপূর্বক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সংস্কার করে আসছে। তবে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে যথাযথ সমন্বয় করা গেলে সহজে ব্যবসা সূচকে আমরা আরও এগিয়ে যেতে সক্ষম, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন।

মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘লজিস্টিকস: বাংলাদেশের আন্তঃবাণিজ্যের বর্তমান প্রেক্ষিত ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শেয়ার বিজে এ নিয়ে প্রকাশিত  ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা সীমান্ত বাণিজ্যে বড় বাধা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিক পারফরম্যান্স ইনডেক্সসহ (এলপিআই) বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও দেশের লজিস্টিক (বাণিজ্য সহায়ক সুবিধা) ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে থাকায় আমাদের পণ্য রপ্তানি প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস তত্ত্ব ধারণানির্ভর। এর মাধ্যমে আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থান শক্তিশালী করতে নিজস্ব সূচক থাকা উচিত। চট্টগ্রাম বন্দর ৪৯ হাজার ১৮টি কনটেইনার ব্যবহারে সক্ষম হলেও আমরা ব্যবহার করছি বা করতে পারছি ৩৩ হাজার ১৭টি। এই অক্ষমতার জন্য কাদা ছোড়াছুড়ি না করে আত্মসমালোচনা করতে হবে। চট্টগ্রামে সাত-আট কিলোমিটারের একটি বন্দর সংযোগ সড়ক করতে তিন-চার বছর লেগে যায়। এমন হলে সহজে ব্যবসা করার সূচক ইতিবাচক হওয়ার কথা নয়।

একটি কাজের সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকা দুঃখজনক। এতে কাজে গতি আসে না, আবার উন্নয়ন সহযোগীদের তৈরি সূচকে আমরা পিছিয়ে যাই। চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিটাল নেই। অথচ সারা দেশ থেকে এখানে দৈনিক ৮-১০ হাজার ট্রাক আসে। ট্রাকগুলোকে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়, পণ্য নিয়ে ট্রাক বের হতে সময় লেগে যায়। এটি ব্যবসাবান্ধব নয়। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের কনটেইনার ব্যবহার করা যেতে পারে।

আমাদের বন্দরগুলো পুরোনো প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনানির্ভর। বন্দরে কনটেইনার-জট, ডেমারেজ চার্জ, কাস্টমস ছাড়পত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যানজট নিরসন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করা গেলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ৭-৩৫ শতাংশ কমানো সম্ভব। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে লজিস্টিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নতি করতে হবে। লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করতে একটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সহজে ব্যবসা করার সূচকে এগিয়ে থাকতে দেশ অনেক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সেগুলো কাগজে-কলমে নয়, সুফল যেন সেবাগ্র্রহীতারা পায়Ñতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..