শেষ পাতা

মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া সভায় জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালার খসড়া অনুমোদন করা হয়।

গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি বৈঠক হয়েছে মন্ত্রিসভায়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৫৩টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩১টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বাকি ২২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঁচটি নীতি বা কৌশল, দুটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে পাঁচটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার মোট ১৬টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখানে ১১৬টি সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকগুলোতে গ্রহণ করা ১৬১টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ১২২টি। এ হিসাবে ৯ মাসে বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্ত রয়েছে ৩৯টি।

বর্তমান সরকারের সময়ের মধ্যে ১৬টি আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আরও পাঁচটি আইন সংসদে বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া তিনটি আইন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।

জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালা: দেশের জনবলকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। গতকালের সভায় ‘জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালা-২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে তহবিলটি নতুন নীতিমালায় পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দক্ষ জনশক্তি একটি জাতির সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য খুবই অপরিহার্য। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি প্রয়োজন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ নীতিমালা প্রণয়নের কাজটি করছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের জনবলরা এ তহবিলের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিল্প দক্ষতা পরিষদ, অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, চর ও হাওরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পথশিশু, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসী, বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া, চাকরিপ্রার্থী, বেকার বিদেশগামী কর্মী, বিদেশ প্রত্যাবর্তন কর্মী। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা কর্মসূচিতে এ তহবিলের সুবিধা পাবেন।

অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কোম্পানি গঠন করেছে। অর্থ বরাদ্দের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ প্রদানকারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া, অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা নির্ধারণ, প্রশিক্ষণার্থীকে উপবৃত্তি প্রদানের মানদণ্ড নির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম গবেষণা সমীক্ষা ও উদ্ভাবন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং তহবিলের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয় মানবসম্পদ উন্নয়নে তহবিল দিয়ে থাকে। সবগুলো মন্ত্রণালয়ের তহবিল একটি নীতিমালার আলোকে এ পরিচালনা করা হবে। এ জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..