বিশ্ব সংবাদ

মন্ত্রিসভার শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের নাম ঘোষণা করলেন বাইডেন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার আসন্ন মন্ত্রিসভায় মনোনীত শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের নাম জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগে প্রথমবারের মতো একজন নারী নিয়োগ পাচ্ছেন। আর হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে প্রথমবারের মতো লাতিন এক ব্যক্তি নিয়োগ পাচ্ছেন। খবর: এপি ও রয়টার্স।

মন্ত্রিসভার ছয় সদস্যের নাম ঘোষণা করে বাইডেন বলেন, ‘আমি এমন একটি টিম নিয়ে কাজ করতে চাই যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে আমাকে সাহায্য করবেন। যাতে আমি বিশ্বের সামনে থাকা বৃহৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারি।’

নির্বাচনের আগেই ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন বাইডেন। ট্রাম্প প্রশাসন এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নিলেও এ ইস্যুতে বরাবরই সরব ডেমোক্র্যাট শিবির। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ওবামা আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ওবামা আমলের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লেংকেন। জ্যাক সুলিভান পেয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব। অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও সুলিভান উভয়েই ২০১৫ সালে জন কেরির নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নতুন মন্ত্রিসভার অপর তিন সদস্য হলেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়কমন্ত্রী আলেজান্দার মায়োরকাস, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক অ্যাভরিল হাইনেস।

বাইডেন অর্থমন্ত্রী হিসেবে জানেট ইয়ালেনের নাম ঘোষণা করতে পারেন। মনোনয়ন নিশ্চিত হলে প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হবেন ইয়েলেন।

৭৪ বছর বয়সী এ অর্থনীতিবিদ এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শীর্ষ অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সালের আর্থিক সংকটের পরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করার এবং মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে  দায়িত্ব পালনকালে জ্যানেট ইয়েলেন কর্মীদের ওপর ব্যাংক নীতিমালার প্রভাব এবং মার্কিন অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান ব্যয়বৈষম্য নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। তবে ওয়াশিংটনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে জ্যানেট ইয়েলেনকে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডের দায়িত্ব দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..