প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মন্দঋণ বাড়ায় মুনাফা কমেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের

নিয়াজ মাহমুদ: গত ৩০ ডিসেম্বর (২০১৬) শেষ হওয়া হিসাববছরে মন্দঋণ বেড়ে যাওয়ায় প্রভিশন খরচ বেড়ে গেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিচালন ব্যয়। এর ফলে বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) অর্ধেকে নেমে এসেছে। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণও কমেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারদরে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর হারানোর শীর্ষ ১০-এর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।

বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকটি ২০১৫ সালে ইপিএস হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ টাকা। যা ২০১৬ সালে হয়েছে আট দশমিক ৮১ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস কমেছে ছয় দশমিক ২৯ টাকা বা ৪২ শতাংশ। একই সঙ্গে আগের বছরের জন্য ঘোষিত ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ কমিয়ে ২০১৬ সালে ৩০ শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে মুনাফা ও লভ্যাংশ পতনের খবরে কোম্পানিটির শেয়ারদরেও ধস নেমেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার এমন খবরের পর লেনদেনের প্রথম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারপ্রতি ৯ টাকা বা সাত দশমিক ৫৬ শতাংশ দর কমেছে। এটি ডিএসইর লুজারের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কোম্পানি সচিব মো. মনিরুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তা না দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে ব্যাড লোনের (মন্দ ঋণ) পরিমাণ। ফলে বেড়েছে প্রভিশন খরচ। অন্যদিকে সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করায় অপারেটিং কস্ট (পরিচালন ব্যয়) অনেকটা বেড়েছে। এসব কারণে আমাদের মোট মুনাফা কমেছে।’

তবে ভালো গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে কাক্সিক্ষত মুনাফার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন ব্যাংকটির শীর্ষস্থানীয় এ কর্মকর্তা।

বিদায়ী বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ সালের মুনাফার বিপরীতে ৩৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফলে বাকি ৬৬ শতাংশ কোম্পানির রিজার্ভে যোগ হবে। ২০১৬ সালে কোম্পানির নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিপিএস) হয়েছে ২৪ দশমিক ৫৭ টাকা। আর এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ৩০ টাকায়।

কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য আলোচ্য বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য আগামী ৩০ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনামালঞ্চর কনভেনশন হলে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। আর  শেয়ারহোল্ডার নির্বাচনের জন্য ১৫ মার্চ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ’১৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে সাত টাকা ৬৪ পয়সা; যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। আগের বছর একই সময় ব্যাংকটির ইপিএস ছিল আট টাকা ৮১ পয়সা। গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে দুই টাকা দুই পয়সা। আগের বছর একই সময় ব্যাংকটির ইপিএস ছিল তিন টাকা ২৪ পয়সা।

দেড় শতাধিক শাখার মাধ্যমে গ্রাহকসেবা দেওয়া এ ব্যাংকটি আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধানের (স্প্রেড) নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কোনো ব্যাংকের এ ব্যবধান পাঁচ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্প্রেড ছয় দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে আমরা বরাবরই তাগাদা দিয়ে আসছি। এর আগে এ তালিকায় ২০টি ব্যাংক থাকলেও এবার ১৫টিতে নেমে এসেছে। যেসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্প্রেড সীমা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেন শেষে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১০৯.৭০ টাকায়। যা আগের দিনের চেয়ে ৯ টাকা কম অর্থাৎ শেয়ারদর কমেছে সাত দশমিক ৫৬ শতাংশ। ৪০০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনের কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। ২০০১ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে যথাক্রমে ছয় দশমিক ৪২ শতাংশ ও দশমিক ৪৮ শতাংশ। বাকি ছয় দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।