Print Date & Time : 26 November 2020 Thursday 1:11 am

মন্দাবাজারে লোকসানি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য

প্রকাশ: March 5, 2020 সময়- 12:22 am

রুবাইয়াত রিক্তা:টানা দু’দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫৬ পয়েন্ট সূচক উত্থানের পর গতকাল ফের বড় পতন হয়েছে। গতকাল মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকে সব খাতেই দর সংশোধন করা হয়। ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতনে ডিএসইএক্স সূচকের ৫৬ পয়েন্ট পতন হয়। লেনদেন কমেছে ৯৮ কোটি টাকা। মন্দাবাজারে লোকসানি কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ডিএসইর দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় পাঁচটি ছিল বি ক্যাটেগরির কোম্পানি, তিনটি মিউচুয়াল ফান্ড এবং দুটি ছিল এ ক্যাটেগরির কোম্পানি। দর বেড়েছে মাত্র ২২ শতাংশ বা ৮০টি কোম্পানির। এর মধ্যে এ ক্যাটেগরির দর বেড়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ কোম্পানির, বি ক্যাটেগরির বেড়েছে ২৯ শতাংশ কোম্পানির এবং জেড ক্যাটেগরির ৩৩ শতাংশের। 

২০ শতাংশ লেনদেন হয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতে ৬৯ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের। ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে  উঠে আসে সিলভা ফার্মা। দরপতন হয় দুই টাকা। ওরিয়ন ফার্মার ১১ কোটি ২৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ১০ পয়সা। গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯৭ টাকা ৬০ পয়সা। ফার কেমিক্যালের আট কোটি ৪২ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৮০ পয়সা। স্কয়ার ফার্মার আট কোটি ৪১ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে চার টাকা ১০ পয়সা। ওরিয়ন ইনফিউশনের আট কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ভিএফএস থ্রেড ডায়িংয়ের ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় দেড় টাকা। এছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসা বি ক্যাটেগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাতের হাক্কানি পাল্প। কোম্পানিটির দর বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি মাত্র দুই শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সবশেষ চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস ৪৮ পয়সা লোকসানে আছে। ৯ শতাংশ দর বেড়েছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এর ইপিএস ৪০ পয়সা লোকসানে আছে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইপিএস ১১ পয়সা হলেও কোম্পানিটির মূলধন লুটপাট হওয়াতে বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থানে রয়েছে কোম্পানিটি। পৌনে ৯ শতাংশ দর বেড়ে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক পঞ্চম অবস্থানে থাকলেও গত দুই বছর ধরে নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়ে ক্যাটেগরি টিকিয়ে রেখেছে কোম্পানিটি। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস চার টাকা ৬০ পয়সা লোকসানে রয়েছে। অথচ স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের শেয়ারদর বর্তমানে ৩৯০ টাকা ৩০ পয়সা। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস এক টাকা ৩১ পয়সা লোকসানে আছে। মন্দাবাজারে সাধারণত কম দামি শেয়ারের দর বেশি বেড়ে থাকে, কিন্তু যেসব কোম্পানি লোকসানে রয়েছে, সেগুলোর শেয়ারদর কারা বাড়াচ্ছে, সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর খতিয়ে দেখা দরকার।