প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মন্দাভাব কাটিয়ে উঠছে বলিরহাটের ফার্নিচার বাজার

 

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দীর্ঘ চার বছর পর ব্যবসায় মন্দাভাব কাটিয়ে উঠছে চট্টগ্রাম নগরীর বলিরহাট ফার্নিচার বাজার। স্থানীয় চাহিদা, সহজলভ্য কাঁচামাল, সস্তা শ্রমবাজার, উন্নত পরিবহন সুবিধা, উন্নত কারিগরি জ্ঞানের সুবাদে এ হাটে গড়ে উঠেছে পৃথক ফার্নিচার বাজার। এ হাটের ৮০০ ফার্নিচার দোকানে বার্ষিক লেনদেন হয় প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এ নগরীতে কয়েক বছরে জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবন। আর নতুন এ ভবনগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন নান্দনিক ফার্নিচার। এর সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় চাহিদা, সহজলভ্য কাঁচামাল, সস্তা শ্রমমূল্য। এ সুযোগগুলো কাজে লাগাচ্ছেন ফার্নিচার নির্মাতারা। নগরীর  বাকলিয়ায় বলিরহাট ও সাবানঘাটা এলাকার ফার্নিচার নির্মাতা ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। পূর্ব বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকা কাঠ ও ফার্নিচার শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ। এখান থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন  প্রান্তে আসবাবপত্র নিয়ে যান। এ বাজারের দোকানগুলোয় বছরে প্রায় এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এতে ১০০-১৫০ কোটি টাকা নিট লাভ হয় বলে জানান সংশিষ্টরা। বলিরহাট ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও নির্মাতা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফার্নিচারের মালিক মনসুর আলম বলেন, আমাদের মাসিক আয় নির্দিষ্ট নেই। কোনো মাসে ৭০ হাজার টাকা হয়; আবার কোনো মাসে এক লাখ ৫০ হাজার টাকাও হয়। তবে বর্তমানে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের জন্য আমাদের ব্যবসায় একটু মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মেয়ের বিয়ের উপহার হিসেবে ফার্নিচার কিনতে আসা পশ্চিম বাকলিয়া নিবাসী আবু জাফর বলেন, বলিরহাট ফার্নিচার শিল্পের জন্য ঐতিহ্যবাহী এলাকা। তাছাড়া সুলভে আসবাবপত্র পাওয়া যায়। এখানে আসা ভালো মানের ফার্নিচারের জন্য। সাধারণত সেগুন, গামারি গাছ বেশি ব্যবহƒত হয়। যেমনটি বলছিলেন সিকান্দার ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী কামরুল হাসান, ‘আমরা সেগুন গাছ বেশি ব্যবহার করি। কারণ আমরা চাই ক্রেতারা ভালোমানের ফার্নিচার ব্যবহার করুক। এতে আমাদের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের বলিরহাট এলাকার ফার্নিচার একসময় সারা দেশে জনপ্রিয় ছিল।

এ এলাকার বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় এ ব্যবসায় জড়িত। পারিপারিক ও লাভজনক ব্যবসা হিসেবে স্থানীয়রা কাঠ ও ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের উৎপাত নেই। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ কাঠ বোঝাই গাড়ি থেকে চাঁদা নেয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বলিরহাট ফার্নিচার ব্যবসা ও নির্মাতা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাঝে মাঝে টহলরত পুলিশ সদস্যরা কাঠের গাড়ি থামিয়ে চাঁদা নিতে শুনি। তবে নিয়মিত নয়। এ বিষয়ে টহলরত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বর্তমানে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য ফার্নিচার পরিবহন ও কাঠ আমদানিতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তাছাড়া বর্তমান বাজারে সব ধরনের কাঁচামালের দাম দিন দিন বাড়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় অল্প লাভে বেশি বিক্রি করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা। এন. ফার্নিচার ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী নাঈম ইসলাম বলেন, স্থানীয় চাহিদা থাকায় আমরা ব্যবসা করতে পারছি। তাছাড়া আমরা শতকরা ৭-১০ ভাগ লাভে ফার্নিচার বিক্রি করি। যা অন্যান্য বাজার হতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এতে ক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন।

এ ফার্নিচার বাজারে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ফার্নিচার কারিগরদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে এ নগরীতে আলাদা ফার্নিচার শিল্প এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এ খাতের বিকাশে চেম্বারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বলিরহাটের ফার্নিচার শিল্পকে আরও বেশি রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চান এ খাতের ব্যবসায়ীরা।