বিশ্ব সংবাদ

মন্দায় জার্মানির শিল্প খাত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী শিল্প উৎপাদনে চলছে শ্লথগতি। জার্মানিতেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত গভীর মন্দায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অব জার্মান ইন্ডাস্ট্রি। চলতি বছর এ খাতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন চার শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংগঠনটি। খবর: বিজনেস রেকর্ডার।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী শিল্প উৎপাদন কমছে। জার্মানিতেও এর প্রভাব পড়েছে। চলতি বছর জার্মানির রফতানি প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে দুই দশমিক এক শতাংশ থেকে কমে চলতি বছর দশমিক পাঁচ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের পর এটিই হবে রফতানির সবচেয়ে শ্লথগতি। সংগঠনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোচিম ল্যাং বলেন, টানা ছয় বছর প্রবৃদ্ধির পর গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে জার্মানির শিল্প খাতে মন্দাবস্থা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব জার্মানির শিল্প খাতে পড়েছে। গতানুগতিক গাড়ি থেকে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির বাজার বাড়ায় এ শিল্প একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে। এতে চলতি বছর দেশটিতে গাড়ি উৎপাদন কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। 

২০১৮ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ। ২০১৩ সালের পর এটিই সর্বনি¤œ প্রবৃদ্ধি। মূলত গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী চলা বাণিজ্যবিবাদের প্রভাব পড়েছে দেশটির প্রবৃদ্ধিতে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট নিয়ে অনিশ্চয়তা, চীনের অর্থনীতির দুর্বল অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাবই জার্মানির প্রবৃদ্ধি হ্রাসের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া গাড়ি নির্মাণ শিল্পে নির্গমনের মাত্রা নতুন করে নির্ধারণ করে দেওয়ায় উৎপাদন কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

বিশ্ব বাণিজ্যের সংঘাত ও সংরক্ষণবাদ নীতি দেশটির অন্যতম প্রধান রফতানি খাত গাড়ি নির্মাণ শিল্পে আংশিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ব্রেক্সিটসংক্রান্ত ভোটাভুটির জটিলতায় যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ না করে, তবে এ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই চলতি বছরের জন্য দেশটির সরকার আয়কর কমানোসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। তবে সার্বিকভাবে জার্মানি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেই ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সংকটপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জার্মানির অর্থনীতি ভালো ফল করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..