বিশ্ব সংবাদ

মন্দার দ্বারপ্রান্তে হংকংয়ের অর্থনীতি

বাণিজ্যযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শপিং গন্তব্য হংকংয়ে পর্যটক কমছে এবং খুচরা বিক্রি কমে যাচ্ছে। টানা দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতি গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: রয়টার্স।
গত শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি উপাত্তে দেখা গেছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে হংকংয়ের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় দশমিক চার শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সম্প্রতি সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। দেশটির ব্যস্ততম বিমানবন্দর আন্দোলনের একপর্যায় বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রধান শপিংমলগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্রটি, যার বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বন্দর রয়েছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং এক দশকের মধ্যে চীনের অর্থনৈতিক শ্লথগতিতে চাপে রয়েছে। হংকং শহর কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তারা ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে শূন্য থেকে এক শতাংশে এনেছে। এর আগে এ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল দুই-তিন শতাংশ।
গত প্রান্তিকে আশঙ্কার চেয়েও বেশি কমেছে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। এ প্রান্তিকে জিডিপি দশমিক তিন শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। আগের প্রান্তিকেও জিডিপি কমেছিল। টানা দুই প্রান্তিকে জিডিপি সংকুচিত হওয়ায় দেশটির মন্দার খুব কাছাকাছি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কয়েক মাসব্যাপী বিক্ষোভে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনের দখলে যাওয়ার পর স্বায়ত্তশাসিত হংকং সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে। সম্প্রতি আন্দোলনের প্রভাব সরকারি উপাত্তে আসেনি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিট বলছে, গত ১৬ মাস ধরেই হংকংয়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে।
সরকারি অর্থনীতিবিদ আন্ড্রিউ আও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাসমূহ চলমান থাকলে পর্যটক ও ভোক্তা ব্যয়সংশ্লিষ্ট খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থনৈতিক মনোভাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের সুনাম রয়েছে তাও ক্ষুন্ন হবে।
হংকং সরকার দেশটির রফতনি হ্রাসেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী মাসের শুরু থেকে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলালের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরও প্রভাব পড়বে দেশটির ব্যবসা বাণিজ্যে।
হংকংয়ের নেতা কেরি ল্যাম বলেছেন, অর্থনৈতিক প্রভাব ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাস বিস্তারের সময় এবং ২০০৮ সালে আর্থিক মন্দার সময়ের চেয়ে খারাপ হওয়ার হুমকি রয়েছে।
চীনে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই মাস আগে প্রস্তাবিত একটি বিল বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠা হংকংয়ের বিক্ষোভ এখন স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের মুখে প্রধান নির্বাহী কেরি ল্যাম ওই বিলকে ‘মৃত’ ঘোষণার পরও আন্দোলন থামছে না।
বিক্ষোভকারীরা বিলটি পুরোপুরি বাতিল, পুলিশি নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত এবং কেরি ল্যামের পদত্যাগ চাইছে। গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা বিমানবন্দরে জড়ো হওয়ার পর থেকে এখনও সেখানে অবস্থান করছে।

সর্বশেষ..