প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

  মন্দা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ২৫ বছর

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে। কোনো ধরনের মন্দা ছাড়াই উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২৫ বছর পার করলো দেশটি। আধুনিক যুগে বিরতিহীনভাবে  প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেদারল্যান্ডসের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। খবর বিবিসি।

গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিতভাবে দেশটির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও বছর শেষে প্রবৃদ্ধিতে ঘুরে দাঁড়ায়। গত বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই দশমিক চার শতাংশ। প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে ভোক্তা ব্যয় ও রফতানি খাত।

১৯৯১ সালের পর অস্ট্রেলিয়া কোনো ধরনের মন্দার কবলে পড়েনি। পরপর দুই প্রান্তিকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেনি দেশটির অর্থনীতিতে। তবে এক প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছেÑএ রকমটা হয়েছে।

এএফপি ক্যাপিটালের শেন অলিভার বলেন, চলতি অর্থবছরের চিত্রও ইতিবাচক। পণ্যের দাম ও রফতানি বাড়ায় ভালো প্রবৃদ্ধির আশা করা যায়।

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ এমনটি তিন শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও পণ্যের দাম বাড়ায় ২০১৭ অর্থবছরে প্রায় তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য, টানা প্রবৃদ্ধির পর গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি দশমিক পাঁচ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটির প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির ঘটনা। ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও সরকারের ব্যয় কমে যাওয়ায় ওই সময় প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এবিএস) তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক দশমিক আট শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি দশমিক পাঁচ শতাংশ। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির এ হার অনেক কম ছিল।

প্রবৃদ্ধি হ্রাসের এ খবরে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান কিছুটা কমে দশমিক ৭৪২০ ডলারে নেমে গিয়েছিল।

বিশ্বঅর্থনীতিতে মন্দা থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ ও পণ্যের উচ্চ চাহিদার কারণে গত ২৫ বছর দেশটি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ টাপাস স্ট্রিকল্যান্ড তখন বলেছিলেন, আগামী প্রান্তিকে আমরা এ ধরনের বড় প্রবৃদ্ধি পতন প্রত্যাশা করি না। অবশ্যই মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ঘুরে দাঁড়াবে। সুতরাং মন্দা হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটি আগামী বছর সুদহার কমানোর একটি বার্তা দিচ্ছে।

ডিসেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া সুদহার কমিয়ে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ করেছে।

এবিএসের তথ্যমতে, ভবন তৈরির কার্যক্রম কমে যাওয়ায় নির্মাণশিল্পে প্রবৃদ্ধি তিন দশমিক ছয় শতাংশ কমে গেছে, যা তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পতনে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার স্কট মরিশন বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে দেশটির অর্থনৈতিক নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ নিয়ে চ্যালেঞ্জে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৮ সালে বিশ্বঅর্থনৈতিক মন্দায়ও বিনিয়োগ এত চাপে পড়েনি। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নির্মাণ খাত ও ব্যবসার প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উৎস। এর অংশ হিসেবে আমরা কর কমানো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ কিছু প্রকল্প নিতে যাচ্ছি, যাতে করে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন।