শোবিজ

মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার পাচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর

শোবিজ ডেস্ক: প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ। ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি ছিল তার ৮৫তম জন্মদিন। সেদিন তারই উপস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, প্রতি বছর নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ‘অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার’ দেওয়া হবে। আর প্রথম আয়োজনে নাটক ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ২০১৯ পুরস্কার পাচ্ছেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি তার ৯৬তম জন্মদিনে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কুদ্দুছ। তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ জানুয়ারি এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূরের হাতে এ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হবে। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। আর বিশেষ অতিথি থাকার কথা রয়েছে চিত্রশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। আর অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। পুরো আয়োজনটি হবে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে। একই দিন ‘স্মারক গ্রন্থের মোড়ক’ উম্মোচন করা হবে। এ সম্পর্কে পরিবারের সদস্য শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, গত বছর পরিবারের পক্ষ থেকে এ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ সংস্কৃতিসম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা বলেন এবারের সম্মাননা পাচ্ছেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। আমরা এর জন্য আনন্দিত। উল্লেখ্য, মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্য আন্দোলনের অন্যতম একজন পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু সাহিত্য একাডেমি এবং আলাউল সাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি ভারতের দিল্লি, জয়পুর এবং কলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসেবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার লেখা নাটক কী চাহ শঙ্খ চিল এবং রাজা অনুস্বরের পালা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তিনি জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ১৯৩৫ সালে ১৮ জানুয়ারি ভারতের মালদহ জেলার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ২ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..