দুরে কোথাও

মরক্কোর কয়েকটি বিখ্যাত শহর

সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইসলামিক নানা নিদর্শনে ভরা মরক্কো। উত্তর আফ্রিকার দেশ হয়েও প্রগতি ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মিশেল দেখা যায় দেশটিজুড়ে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নানা নিদর্শনের টানে তাই প্রচুর বিদেশি পর্যটক দেশটিতেবেড়াতে যান। দেখে নিন দেশটির কয়েকটি শহরের টুকিটাকি

রাবাত
মরক্কোর রাজধানী। সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া সব সময় ভালো। শহরে প্রধান সড়কগুলো একমুখী ও প্রশস্ত। ফলে যানজটের বালাই নেই। এ শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান কাসবাহ উদাইয়া। ‘কাসবাহ’ অর্থ ‘দুর্গ’। আটলান্টিক মহাসাগরের স্বচ্ছ নীল পানি যেন আছড়ে পড়েছে শহরের বাড়িগুলোর দেওয়ালে। সঙ্গে রয়েছে নীল ও সাদা রং।

কাসাব্লাঙ্কা
মরক্কো বলতে প্রথমে যে শহরটির নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেটি কাসাব্লাঙ্কা। মরক্কোর সবচেয়ে পর্যটনপ্রিয় শহর ক্যাসাব্লাঙ্কা। এ শহরের বাড়িগুলোর রং প্রায় সাদা। এখানকার হাসান মসজিদটি বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় মসজিদের একটি। আরও রয়েছে কিংস প্যালেস। পাশাপাশি কর্নিক সমুদ্রসৈকত নগরটিকে অনন্য করে তুলেছে।

ফেজ
মরক্কোর তৃতীয় বৃহত্তম শহর ফেজ। হ্যান্ডিক্র্যাফট ক্যাপিটাল হিসেবে এর বেশ সুনাম রয়েছে। ফেজের প্রধান আকর্ষণ চতুর্দিকে দেওয়ালঘেরা মেদিনা (বাজার)। সরু রাস্তা ও পুরোনো ঘিঞ্জি বাড়ি রয়েছে এখানে। ফলে গাড়ি চলে না। তাই মেদিনার ভেতরে যাতায়াতের জন্য হাঁটাহাঁটি বা গাধাই সম্বল।

মারাক্কেশ
মরক্কোর দক্ষিণে মারাক্কেশের অবস্থান। অ্যাটলাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা রাজকীয় এক নগর মারাক্কেশ। কুতুবিয়া মসজিদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ। অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে এল বাদি প্যালেস, বাহিয়া প্যালেস, সেন্ট্রাল স্কয়ার প্রভৃতি।
ভলুবিলিস
তৃতীয় শতাব্দীতে নির্মিত হওয়া শহরটি একসময় রোমান সাম্রাজ্যের দখলে ছিল। সেই চিহ্ন আজও চোখে পড়ে নানা রোমান স্থাপত্য শহরজুড়ে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পেয়েছে শহরটি। এখানকার উর্বর ভূমিতে নানা ধরনের শস্য উৎপাদিত হয়।

মুলে ইদ্রিস
পাহাড়ের ওপর থেকে শহরটির দৃশ্য মন কাড়ে যে কোনো পর্যটকের। মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) পৌত্র মুলে ইদ্রিস ৭৮৯ সালে অ্যাটলাস মাউন্টেনের কোলে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তাই স্থানটি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বেশ পরিচিত। এ শহরের একেকটা বাড়ির দরজা যেন একেকটা নিদর্শন। দেওয়ালে অসাধারণ মোজাইকের কাজ দেখা যায়। মজার বিষয়, এ শহরের পাহাড়ি গলিপথে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম গাধা।

এইত বেনহাদু
মাটির বাড়ি ও মাটির দুর্গ মিলে পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা একটি অপূর্ব শহর এইত বেনহাদু। এখানে রয়েছে একাদশ শতাব্দীতে তৈরি হওয়া বার্বারদের গ্রাম। সবুজ উপত্যকা আর মাইলের পর মাইল লাল রুক্ষ মাটি ও গিরিখাত অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের কাছে টানে। পুরো শহরটাই ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এসাউইরা
মরক্কোর পশ্চিমে আটলান্টিকের দিকে বন্দরশহর এসাউইরা। এখানকার বাসিন্দারা মূলত মৎস্যজীবী।

টেটোয়ান
মরক্কোর একেবারে উত্তরে ভূমধ্যসাগরের তীরে রিফ পর্বতমালার ওপর গড়ে উঠেছে এ পুরোনো বন্দরনগরী। ইতিহাসসমৃদ্ধ শহরটি চোখজুড়ানো। মরক্কো ও আন্দালুসিয়ার যোগসূত্র ছিল শহরটি। এখানকার বাড়িঘরগুলো সব সাদা রঙের। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাবো নেগ্রো বিচ, রিফ পর্বতমালা, প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, মার্টিল মেদিনা বাজার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

সর্বশেষ..