আজকের পত্রিকা দিনের খবর শেষ পাতা সারা বাংলা

মশক নিধন ঝিমিয়ে পড়েছে, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ

আকাশ মো.জসিম, নোয়াখালী: জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেলা শহরের মাইজদী, সোনাপুর, দত্তেরহাট ও মাইজদী বাজার এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি বলে জানিয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

জানা গেছে, মশক নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় নোয়াখালী পৌরসভার বেড়েছে মশার উপদ্রব। শহরের প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে এর উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায়ও অসহ্য হয়ে ওঠছে শহরবাসীর জীবন।

সন্ধ্যার পর পরই মশার উপদ্রব দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাসা বাড়িতে লেখাপড়া করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এ বছর শীত শেষ হওয়ার পর থেকেই নোয়াখালী পৌরসভা মশানিধন কার্যক্রম শুরু করছে। কিন্তু করোনাসহ নানা কারণে এখনো এর ফল পায়নি পৌরবাসী।

শহরবাসীর অভিযোগ, পৌরসভা স্বাস্থ্য শাখার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে মশক নিধন কার্যক্রমের কোনো সুফল আসছে না। পৌরসভার পক্ষ থেকে যারা মশার ওষুধ ছিটান তারা বেশিরভাগই অদক্ষ ও হেয়ালি স্বভাবের। তারা বাসা বাড়ির পাশের ড্রেনে স্প্রে না করে বাসা-বাড়ির সামনে ওষুধ ছিটিয়ে চলে আসেন। বেশির ভাগ এলাকায় সড়ক সংলগ্ন বাসাগুলোতেই মশার স্প্রে করা হয়। এলাকার ভেতরের বাসাগুলোতে স্প্রে করতে যান না পৌরকর্মীরা।

নোয়াখালী পৌরসভা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার মশক নিধন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে। মশা নিধনে এবার পৌরসভা দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু করার কথা।

শহরের সোনাপুর, মহব্বতপুর, লক্ষীনারায়ণপুর, ফকিরপুর, গোপাই, গুপ্তাংক, মাইজদী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মশার উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরবাসীর অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার উৎপাত বেড়েছে।

নোয়াখালী প্রেসক্লাব ভবনের কর্মচারী লেদু মিয়া বলেন, ক্লাব এলাকায়ও গত কদিন ধরে দেখছি এখানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। শহরের সোনাপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পর থেকেই মশার উৎপাত বেড়েছে। তার ওপর আমাদের বাসা বাড়ির পাশে অপরিচ্ছন্ন ময়লার ড্রেন ও নর্দমা।

সোনাপুরের বাসিন্দা শিফিকা আক্তার বলেন, এই কদিন ধরে দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়েছি। ছোট বাচ্চাদের জন্য আরও বেশি চিন্তা। এই মশার কামড়ে না আবার যদি ডেঙ্গু হয়ে যায়।

নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, মশক নিধনে আমরা দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এবার ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। কারণ এখন যে মশাগুলো আছে সেগুলো এডিস নয়, কিউলেক্স মশা। এই মশাগুলো শুধু কামড়ায়। কিউলেক্স মশা ময়লা ও বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই আমরা আগে কিউলেক্স মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছি।

তিনি বলেন, মশক নিধনের আমাদের চলমান কার্যক্রম সারা বছরই চলছে। শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি বলেন, চলমান মশক নিধন কার্যক্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে না মূলত করোনার আপদকালের কারণে। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগও নানামুখী কাজ করতে হচ্ছে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় শহরবাসীর সচেতনতার ব্যাপারে তিনি বলেন, কিউলেক্স মশা ময়লা ও বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে তেমনি এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই এ ব্যাপারে শহরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আপনাদের বাড়ির আশপাশে বা ঘরের ভেতরে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে সব এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে সেসব এলাকায় ঝোপ-ঝাড় রয়ে গেছে। তাই মশার উপদ্রব কমছে না।

তিনি আরো বলেন, শহরের পরিষ্কার ও মশক নিধনের পাশাপাশি শহরবাসীর সচেতন করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনা হয়েছে। শহরবাসীকে সচেতন করার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করানো হবে।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..