সারা বাংলা

মশায় অতিষ্ঠ সিলেট মহানগরবাসী

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) মারাত্মক হারে বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিন-রাতের বালাই নেই, সব সময়ই হুল ফুটাচ্ছে মশা। মশার যন্ত্রণায় এখন অতিষ্ঠ নগরবাসী। এতে ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। এদিকে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, মশা নিধনে কিছু ওষুধ ছিটানো হয়েছে আর কিছু ওষুধ ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নগরীর ১নং ওয়ার্ডের লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা দেবকল্যাণ ধর বাপন জানান, মশার যন্ত্রণায় ঘরের ভেতরেও টেকা যাচ্ছে না। প্রতি বছর সিটি করপোরেশন থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হলেও এবার এখনও কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। মশার যন্ত্রণায় মনোযোগ সহকারে কোনো কাজও করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, মশার কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জেলা সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায় জানান, মশার কারণে বিভিন্ন ধরনের মশাবাহিত রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এখনও মশাবাহিত কোনো রোগ ধরা পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ মশার উপদ্রব দেখা দিয়েছে, তাতে মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে মশা প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি আরও জানান, সিলেটেও এডিশ মশা আছে। আর এডিস মশার কামড়ে চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গুজ্বর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নগরীর নর্দমা ও খালগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে জমে থাকা এসব ময়লা-আর্বজনা থেকে পুনরায় মশার জš§ হবে।

সিসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ধ্রুব পুরকায়স্থ জানান, প্রতি বছর পুরো নগরীতে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য গড়ে প্রায় তিন হাজার লিটার ওষুধ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ মৌসুমের শুরুতে প্রায় চার লাখ টাকায় এক হাজার লিটার ওষুধ কিনে শুধু জরুরি প্রয়োজন মেটানো হয়েছে। এতে নগরীর ড্রেনগুলোতে ওষুধ ছিটানো হলেও পুরো নগরীতে এখনও ওষুধ ছিটানো বাকি আছে। অক্টোবর থেকে মশার প্রজনন মৌসুম শুরু হলেও কয়েকটি ড্রেন ছাড়া এখনও পুরো নগরীতে মশার ওষুধ ছিটানো না হওয়ায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরীর বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবিব জানান, জরুরি প্রয়োজনে কিছু ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এখন আরও প্রায় ১০ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। চলতি মাসেই তা ছিটানোর কাজ শুরু হবে। এগুলো ছিটানোর পর প্রয়োজন হলে আরো ওষুধ কেনা হবে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..