সম্পাদকীয়

মশা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেছেন রেকর্ডসংখ্যক মানুষ। তাই আশা করা হয়েছিল, পরের বছর দুই সিটি করপোরেশন মশা নিধনে আগে-ভাগে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু অতিমারি নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিডের প্রাদুর্ভাবে অনেকটা চাপা পড়েছে মশা প্রসঙ্গ। দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যস্ত কভিড মোকাবিলায়। মশক নিধন কার্যক্রম স্থবির। সিটি করপোরেশন থেকে আশ্বস্ত করা হলেও কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলেই গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, মশা নিধনে একপ্রকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। আর ঢাকার দুই মেয়র ব্যস্ত পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নিয়ে। সত্যি বলতে কোনো কারণে সিটি করপোরেশন যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে। মশা নিধনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও বন্ধ। আবার মশার ওষুধ কেনায় বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাটের অভিযোগও রয়েছে।

কভিডকালে মশা নিধন কর্মসূচিও জোরদার করতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হয়তো কর্মসূচি জোরদার করা হবে। তবে সেটি সঠিক পদ্ধতি নয়। কভিড মোকাবিলায় মনোযোগ দেয়ার কথা বলে মশা নিধনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেই মনে করি। তা করা না হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। আর তা হলে কভিড ও এডিস দুটোকেই মোকাবিলা করতে হবে একসঙ্গে। মশা নিধনে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর বাইরে মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, লোশন ব্যবহার করে, নর্দমায় গাপটি মাছ ছেড়ে এবং ওষুধ ছিটিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশ্য নি¤œমানের ওষুধের কথাও বলেছেন নগরবাসী। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উচ্চ আদালতকে স্বপ্রণোদিত আদেশ দিতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের পছন্দমতো গুটিকয়েক স্থানে মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হয়। তাছাড়া ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতাও তেমন নেই। ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নি¤œমানের কীটনাশকই কেনা হচ্ছে, যেগুলো মশা নিধনে মোটেও সক্ষম নয় বলে অভিযোগ উঠছে।

মশা নিধনে সব কাজ সিটি করপোরেশন করবে, এটিও প্রত্যাশিত নয়। এখন কমবেশি সবাই মশার আবাস ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে জানেন। নগরবাসী ব্যক্তি উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্তত নিজের আবাস-আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাজধানী থেকে শুরু করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে মশা নিধনের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। আবার মশাবাহিত রোগের চিকিৎসা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। দুই মন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। গত নভেম্বরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল এডিস মশা নিধনে সরকার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে আনবে অথবা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে। এ দাবি ছিল সিটি করপোরেশন মেয়রদের। তারা ওই উদ্যোগের অগ্রগতি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সেটি খোলাসা করা উচিত। এর আগে তিনবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মশার ওষুধ সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাই মানসম্পন্ন ওষুধ আনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। মশা নির্মূলের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একেকবার একেক অজুহাত দেখানো হবে না, এটিই নাগরিকদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..