বিশ্ব সংবাদ

মহামারিতেও বিশ্বে ৫২ লাখ মিলিয়নিয়ার বেড়েছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারির মধ্যে গত বছর অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী সম্পদের ব্যবধান আরও বেড়েছে। মহামারিতে ধনীরা আরও ধনী হয়েছেন। পক্ষান্তরে গরিবরা আরও নিঃস্ব হচ্ছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে ২০২০ সালে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ নতুন মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। খবর: বিবিসি, গার্ডিয়ান।

সুইজারল্যান্ডভিক্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইচ মঙ্গলবার এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০২০’ শীর্ষক বার্ষিক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ধনীর সংখ্যা ৫২ লাখ বেড়ে মোট পাঁচ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়িয়েছে।

ক্রেডিট সুইচের হিসাবে, গত বছরের নতুন ৫২ লাখ মিলিয়নিয়ারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দেশটিতে ২০২০ সালে নতুন ১৭ লাখ মিলিয়নিয়ার বেড়ে মোট মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জার্মানি। দেশটিতে গত বছর নতুন করে ছয় লাখ ৩৩ হাজার ধনকুবের যুক্ত হয়। আর ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি নতুন করে দুই লাখ ৫৮ হাজার মিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছেন। যাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ এক মিলিয়ন ডলারের বেশি।

ক্রেডিট সুইসের ধারণা, এই হারে বৈশ্বিক সম্পদ বাড়তে থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক সম্পদ ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ ট্রিলিয়নে দাঁড়াবে। আর ধনীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।

ক্রেডিট সুইচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্কদের এক শতাংশের বেশি মিলিয়নেয়ার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেয়ার বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো এবং বাড়ির দাম বৃদ্ধি তাদের সম্পদ বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।

মহামারিতে অর্থনীতির বেহাল দশার সঙ্গে সম্পদ সৃষ্টির সম্পর্ক ‘পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন’ বলেও মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। অর্থনীতিবিদ ও গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টের লেখক অ্যান্থনি সরোকস জানান, মহামারি বিশ্ববাজারে স্বল্প মেয়াদে তীব্র প্রভাব ফেললেও ২০২০ সালের জুনের শেষ থেকে এ চিত্র মোটা দাগে উল্টে যেতে থাকে। তিনি বলেন, এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মুখেও বৈশ্বিক সম্পদ শুধু স্থিতিশীলই ছিল না বরং বছরের দ্বিতীয় ভাগে তা হু হু করে বাড়তে থাকে।

তবে এ সত্ত্বেও ২০২০ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরোকস বলেছেন, বাড়ির দাম বৃদ্ধির মতো সম্পদের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ যদি মূল্যায়ন থেকে বাদ দিতে হয় তাহলে বৈশ্বিক পারিবারিক সম্পদ সম্ভবত অনেকখানি কমে যাবে।

তিনি আরও বলেছেন, কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো এক সময় সুদের হার আবার বাড়তে শুরু করবে, যা সম্পদের মূল্য কমিয়ে আনবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মোট বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাত দশমিক চার শতাংশ বেড়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৮ দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার। এতে বলা হয়েছে, ২১ শতকের শুরুর দিকে যত মানুষের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ডলারের মধ্যে ছিল, এখন তার তিনগুণেরও বেশি মানুষের এমন সম্পদ হয়েছে।

ক্রেডিট সুইচের হিসাবে, ২০০০ সালে ১০ হাজার থেকে এক লাখ ডলারের মধ্যে সম্পদ ছিল ৫০ কোটি ৭০ লাখ মানুষের; ২০২০ সালের মাঝামাঝি এমন সম্পদধারী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি।

উদীয়মান অর্থনীতি বিশেষত চীনের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তৃতির কারণে সম্পদধারীদের এ সংখ্যা বেড়েছে, বলছেন গবেষকরা।

ক্রেডিট সুইসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নানেট হেকলার-ফাইডেরব বলেছেন, সুদের হার কমানোর ফলেই শেয়ার ও বাড়ির দাম বাড়তে শুরু করে, যার প্রতিফলন দেখা যায় পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রেও। তবে এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় জনগণের ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ পয়েন্ট বা তারও বেশি বেড়ে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..