বিশ্ব সংবাদ

মহামারিতে বিশ্বে প্রতি দুজনে একজনের আয় কমেছে: গ্যালাপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতে বিশ্বে প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের আয় কমেছে বলে উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। বিশেষ করে নি¤œ-আয়ের দেশগুলোর মানুষ কাজ হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা গ্যালাপ বিশ্বের ১১৭টি দেশের তিন লাখ মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছে, যার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। খবর: রয়টার্স।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এখনও চাকরি বা কাজে আছেন, তাদের অর্ধেকেরই আয় আগের চেয়ে কমে গেছে মহামারির এই সময়ে। জরিপের এই তথ্যে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটেছে ধরে নেয়া হলে মহামারিতে আয় কমে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা ১৬০ কোটিতে দাঁড়ায়।

সমীক্ষায় থাইল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৭৬ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডে সর্বনি¤œ ১০ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের আয় কমার কথা বলেছেন। বলিভিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, ইন্দোনেশিয়া, হন্ডুরাস ও একুয়েডরে এই হার ৭০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ শতাংশ।

গ্যালাপের জরিপ বলছে, মহামারি বিশ্বের সব দেশেই শ্রমজীবীদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে পণ্য বিক্রি, পর্যটন ও রেস্তোরাঁর মতো খাতে তুলনামূলকভাবে কম বেতনে নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার অক্সফার্মের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মহামারিতে বিশ্বের নারী কর্মীরা যে পরিমাণ আয় হারিয়েছেন, তা যোগ করলে ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

আর গ্যালপের জরিপে অংশগ্রহাণকারীদের অর্ধেকই বলেছেন, মহামারির মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও তাদের চাকরি বা ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে। পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা ১৭০ কোটি হতে পারে।

ভারত, জিম্বাবুয়ে, ফিলিপিন্স, কেনিয়া, বাংলাদেশ, এল সালভাদরসহ ৫৭টি দেশের উত্তরদাতাদের ৬৫ শতাংশ জরিপে বলেছেন, মহামারির মধ্যে একটি সময় তাদের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে উন্নত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি আয়ের দেশে এই হার কম। অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির উত্তরদাতাদের মধ্যে যাদের চাকরি আছে, তাদের মধ্যে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০ শতাংশের কম।

গ্যালপের এই জরিপ বলছে, তাদের উত্তরদাতাদের প্রতি তিনজনের একজন মহামারির মধ্যে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন। পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা হতে পারে ১০০ কোটির বেশি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..