প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মহামারিতে শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ: অক্সফাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড মহামারি বিশ্বের অনেক মানুষকে দরিদ্র বানিয়েছে। ধনীও করেছে অনেককে। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম বলেছে, এ সময় বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মহামারি। খবর: বিবিসি।

অক্সফামের বরাত দিয়ে বিবিসি গতকাল জানিয়েছে, মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ধনীর সম্মিলিত সম্পদ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন প্রায় ২১ হাজার মানুষ।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের বরাতে অক্সফামের প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী হিসেবে- ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, বেরনাহ আরনোহ ও পরিবার, বিল গেটস, ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রেইন, মার্ক জাকারবার্গ, স্টিভ বলমার ও ওয়ারেন বাফেটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মহামারি শুরুর পর যৌথভাবে তাদের মূলধন ৭০০ বিলিয়ন বা সাত লাখ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দেড় ট্রিলিয়ন বা ১৫ লাখ কোটি ডলার হয়েছে। তবে তাদের সবার সম্পদ সমানভাবে বাড়েনি, যেমন ইলন মাস্কের সম্পদ ১০০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে বিল গেটসের সম্পদ বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

প্রতি বছর সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভা শুরুর আগে বৈশ্বিক বৈষম্যের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অক্সফাম। অক্সফাম জিবির প্রধান নির্বাহী ড্যানি শ্রীসকান্দারাজাহ জানান, অর্থনীতি, ব্যবসা ও রাজনৈতিক খাতের প্রভাবশালীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই প্রতি বছর দাভোস সম্মেলনের আগে তাদের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

দাভোসের সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বিনোদন জগতের তারকা, অর্থনীতিবিদ ও সাংবাদিক অংশ নেন। মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও এ সভা অনলাইনে হচ্ছে। সভা শুরু হয়েছে গতকাল। এবারের আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকছে মহামারি নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, টিকা পাওয়ার সমতা ও জ্বালানি পরিবর্তন।

অক্সফাম জানায়, মহামারির প্রায় প্রতিদিন একজন করে নতুন শত কোটিপতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে লকডাউন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হ্রাস, বৈশ্বিক পর্যটন সংকোচনের কারণে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ ক্ষতিতে রয়েছেন। এ কারণে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নেমে গেছেন। তাদের দৈনিক জীবনযাপনের ব্যয় সাড়ে পাঁচ ডলারের নিচে নেমে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে দিনে সাড়ে পাঁচ ডলার খরচ করার সামর্থ্যকে দারিদ্র্যসীমা হিসেবে বিবেচনা করে বিশ্বব্যাংক।