সম্পাদকীয়

মহাসড়কে যানজটের কি কোনো প্রতিকার নেই?

 

 

গত ৭ মার্চ রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাধিক জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে ওই রাত থেকে সেখানে সৃষ্টি হয় যানজটের এবং তা আস্তে আস্তে ৫৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ যানজট পরদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একইভাবে ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত থেকে একই মহাসড়কে পুনরায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং তা ১১ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় মহাসড়কের একাধিক জায়গায় দুর্ঘটনা ও ট্রাক বিকলের ঘটনা ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘদিন প্রশস্তকরণের কাজ চলায় চলাচলের পথ তুলনামূলক সংকুচিত হয়ে এসেছে। এসব রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে বা গাড়ি বিকল হলে এর প্রভাব পড়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। যানবাহনের অত্যধিক চাপ তো রয়েছেই। সাম্প্রতিককালে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গাজীপুরের আশুলিয়া থেকে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, জামুর্কি ইত্যাদি এলাকায় যানজটের প্রাবল্য শুরু হয় এবং তা স্থায়ী হয় শনিবার পর্যন্ত। অন্য দিনগুলোতেও সময়ে সময়ে যানজট হচ্ছে নানা কারণে। আমাদের মহাসড়কগুলোর একটির অবস্থাই কেবল এখানে বর্ণনা করা হলো। অন্য সড়কগুলোর অবস্থা যে পুরোপুরি ভালো, তা নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রশস্ত করায় সেখানে এখন আগের মতো যানজট হয় না সত্যি; কিন্তু একসময় এ মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের প্রায় পুরোটায়ই যানজট লেগে থাকতো। রাস্তা প্রশস্তকরণের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাতায়াতকারীদেরও একই কষ্ট সইতে হয়েছে। যখন যে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলে, সেখানেই এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ থেকে ধরে নেওয়া যায়, মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ প্রশস্তকরণ।

প্রশস্তকরণ সম্পন্ন হলে এ থেকে সুবিধা পাবেন ওই রাস্তা ব্যবহারকারীদের সবাই। তাই বলে কি দীর্ঘদিন যানজটের ধকল সইতে হবে? সড়ক-মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের কিছু নিয়মকানুন আছে। সেগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা কি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দেখছে? যে কোনো উন্নয়ন কাজে দীর্ঘসূত্রতা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কাজে যত দেরি হয়, ভোগান্তিও তত বাড়ে। ঠিকাদাররা প্রশস্তকরণের নিয়মকানুন মেনে কাজ করলে যানজটের বড় কারণটি এড়ানো সম্ভব। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় বিকল হওয়াও যানজটের অন্যতম কারণ। হাইওয়ে পুলিশকে নিয়মিত টহল দেওয়ার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে রাস্তায় চলতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়কে বাজার বসা কিংবা দুপাশের বাজার মহাসড়কে চলে আসাটা এদেশে স্বাভাবিক ঘটনা। এসব বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মহাসড়কের ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, এমন সড়ক আমাদের খুব কম আছে। যেটুকু আছে, সেটিও যদি যথেচ্ছাচারে নষ্ট হতে থাকে তার প্রভাব যান চলাচলে পড়বেই। একক কোনো কর্তৃপক্ষ এ যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এর সমাধানে এগিয়ে না এলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..