মহেশখালীতে বন্দুক ধরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর

প্রতিনিধি, কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুরে রাতের অন্ধকারে চার সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের বন্দুকের নলের মুখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ তাদের ড. ওসমান সরওয়ারের নামে শাপলাপুরে প্রবেশ না করার জন্য হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। ড. ওসমান শাপলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শাপলাপুরের এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে রসিদ মিয়া ব্রিজ-সংলগ্ন ঢালে তাদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে।

আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক জনকণ্ঠের মহেশখালী প্রতিনিধি ফারুক ইকবাল, স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার বার্তার ও সিভয়েসের প্রতিনিধি এসএম রুবেল, দৈনিক ইনানীর প্রতিনিধি আ ন ম হাসান এবং কক্সবাজার লাইভ ২৪-এর প্রতিনিধি একে রিফাত।

আহত সাংবাদিকরা জানান, শাপলাপুরের এক বন্ধুর মেহেদী অনুষ্ঠানের গেলে সেখান থেকে ফেরার সময় পূর্ব পরিকল্পনামাফিক একদল বন্দুকধারী সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করেন। এ সময় আমাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ক্যামেরা ভেঙে দেয়। আমাদের শাপলাপুরে না যেতে বলেন। তারা আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা এ সময় ওসমানের নাম বারবার উচ্চারণ করেন। তারা বলতে থাকে, ‘ওসমানকে চিনস, ওসমান শাপলাপুরের বাঘ; লিখলে একদম গুলি মেরে ফুটো করে দেব।’

দৈনিক জনকণ্ঠের মহেশখালী প্রতিনিধি ফারুক ইকবাল বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, ডাকাত দল। কিন্তু না, তারা আমাদের কিছু নেইনি, শুধু হামলা করে। বারবার ডাক্তার ওসমানের নাম উচ্চারণ করে বলেন, ওসমান হলো বাঘ। কী লিখস তোরা, মেরে ফেলব?

কক্সবাজার বার্তার ও সিভয়েজস প্রতিনিধি এসএম রুবেল বলেন, গত বছর শাপলাপুরে একজন কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের দাবি ছিল, ওসমান তার গ্যাং নিয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপরে ওসমান এক দিনমজুরকে রাস্তায় মারধর করেন। বিভিন্নভাবে অফার দেয়া সত্ত্বেও আমরা গ্রহণ না করে, সংবাদ লিখেছিলাম। এই কারণে তার শক্তির জানান দিতে, অস্ত্র ধরে কলম থামাতে আমাদের ওপর হামলা করেন। এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

তবে এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন ডা. ওসমান। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার প্রতিপক্ষরা আমার নাম ব্যবহার করেছেন। আমিও হামলাকারীদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাই শেয়ার বিজকে বলেন, আহতরা রাতে থানায় এসেছিল। সকালে অভিযোগ দেয়ার কথা, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটি মহেশখালী শাখার নেতারা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৪৭  জন  

সর্বশেষ..