প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মহেশখালীতে সরকারি ঘর দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কাইমুল ইসলাম ছোটন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীতে সরকারি বরাদ্দ থেকে ঘর দেয়ার নামে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। দেড় বছর ধরে ঘর না পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে চাইলে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মহেশখালীর কালারমারছড়াতে সক্রিয় প্রভাবশালী প্রতারক চক্রটি। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের অসহায় পরিবারগুলোকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারগুলোর অভিযোগ, দেড় বছর পরও ঘর না পেয়ে এখন তারা দিশাহারা। অনেকে ধার করে টাকা দিয়েছেন। সরকারি ঘর দেবে বলে প্রতারক চক্রের সদস্য নুরুল হক প্রকাশ ও কাঠমিস্ত্রি মনু তাদের কাছে ১০ হাজার বা ২০ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেন। ঘর তো দূরের কথা, এখন তারা টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক চক্রের প্রধান প্রভাবশালী জনৈক রুবেলের নির্দেশে নুরুল হক সরকারি ঘর বরাদ্দ দেবে বলে ১০টি হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ৫-১০ হাজার করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। অনেক ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করার জন্য দুজনকে এক হাজার করে ইট সরবরাহ দেয় প্রতারক চক্রটি। চাপের মুখে কয়েকজনকে টাকা ফেরত দিলেও অনেককে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিভিন্নভাবে তারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে কাউকে না বলার জন্য।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতারক চক্রের প্রধান রুবেল গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তাদের মাধ্যমে তিনি হতদরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। চক্রটি বিভিন্ন জায়গার ঘর দেয়ার বিভিন্ন ছবি দেখিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে প্রায় শতাধিক মানুষের থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেককে দিয়েছে ইট, সিমেন্টের বস্তা ও বালি। অনেকের ঘর তৈরির কাজও প্রায় শেষ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এরই মধ্যে টাকা ফেরত না পেয়ে অসহায় পরিবারগুলো ঋণের ওপর জীবন পার করছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছুরা খাতুন বলেন, ঘর দেবে বলে তারা আমার থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় এবং কাউকে না বলার জন্য নিষেধ করে। ঘর দিতে না পেরে আট হাজার টাকা ফেরত দেয় এবং বাকি টাকাগুলো চাইলে হুমকি দেয়।

আরও এক ভুক্তভোগী জানান, আমরা ঘরের জন্য মনু মিস্ত্রিকে টাকা দিয়েছি। টাকা ফেরত দেবেন বলে প্রতিনিয়ত নির্দিষ্ট সময় দিচ্ছেন। কিন্তু সময় হলে তিনি কল রিসিভ করেন না, কিংবা আবার সময় নেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল হকের সঙ্গে কথা বললে বেরিয়ে আসে বাকি সদস্যদের নাম। তিনি বলেন, আমি এ চক্রে জড়িত হই। আমার পরিচিত আবুল কালাম মিস্ত্রির মাধ্যমে জানতে পেরে ঘরের জন্য আমি ও অন্যজনের জন্য ২৪ হাজার টাকা দিই। আমি নিজে দুই হাজার ইট ও ১০ বস্তা সিমেন্ট পাই। অন্যজনকে ১১ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।

প্রতারক চক্রের প্রধান রুবেলের ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমেদ জানান, দেড় বছর আগে একটি প্রতারক চক্র ঘর দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। পরে জানতে পেরে বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে চলে যায়।

এ বিষয়ে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন উচমান শরীফ জানান, কিছুদিন আগে প্রতারক চক্রের একজনকে ধরে তিন লাখ টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীদের দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই প্রতারককে থানায় সোপার্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন শিমুল শেয়ার বিজকে বলেন, ঘরের জন্য টাকা আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। তবে কেউ যদি সরকারি ঘর দেবে বলে টাকা নেয়, অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।