সম্পাদকীয়

মাংসের বাজার স্থিতিশীল করতে বাড়ুক উৎপাদন

 

 

মাংসের দাম নিয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে পত্রপত্রিকায়। উচ্চদাম, মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইজারাদারদের বিরোধ, ভারত থেকে গরু ‘আমদানি’তে কড়াকড়ি সব মিলিয়ে মাংসের বাজার খুব একটা স্থিতিশীল, তা বলা যাবে না। তবে আসন্ন রমজানে রাজধানীতে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ ও বিদেশি গরুর মাংসের দাম ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির মাংস যথারীতি রয়েছে সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর দাম নির্ধারিত হয়েছে ৭২৫ টাকা। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। কেননা ২০১৫ সালে রমজানে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ঠিক করা হয়েছিল ২৮০ টাকা। গত বছর তা বাড়িয়ে করা হয় ৪২০ টাকা। এবার সেটা আরও বাড়ানো হলো।

সাম্প্রতিককালে ভারত গরু পাচারে যথেষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সেজন্য দেশটির মাংস রফতানি খাতও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশ এ কারণে প্রচণ্ড মাংস সংকটে পড়েছে এমনটি অবশ্য বলা যাবে না। এ অবস্থায় দেশে বরং গরুর উৎপাদন বেড়েছে অনেকটাই। যেটুকু ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুতই পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কোরবানির ঈদে ভারত থেকে সেভাবে গরু আসেনি। দেশি গরু দিয়ে ভালোভাবেই চাহিদা মেটানো গিয়েছিল। আগামী কোরবানির হাটের জন্য খামারিরা হয়তো গরু সংরক্ষণ করছেন। গরুর জোগানে তাই হয়তো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে মাংসের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা বরাবরই দায়ী করছেন হাটের চাঁদাবাজিকে। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, সচেতন ভোক্তাগোষ্ঠীর উচিত হবে ঊর্ধ্বমুখী দামের পণ্যটি কিছুটা এড়িয়ে চলা। মুরগি উৎপাদনে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা রয়েছে। সেজন্য মাংসজাত আমিষ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। মুরগি, বিশেষত ব্রয়লারের দাম ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এটি ধনীর কাছেও কম জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে দেশে অনেক রেস্তোরাঁ ফ্রায়েড চিকেন বিক্রি শুরুর পর থেকে এর উৎপাদন বেড়েছে প্রচুর। যে মাংস সাশ্রয়ী দামে কেনা সম্ভব, ভোক্তারা সেটির দিকে ঝুঁকলে গরু-খাসির বাজারও অর্থনীতির নিয়মে স্থিতিশীল হবে।

ভারত গরু আসতে দিতে চায় না। এ অবস্থায় বাংলাদেশও সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে গরুর প্রবেশ একেবারে বন্ধ করতে পারে। এতে দেশে গরুর পাশাপাশি মহিষ, খাসি, ভেড়াÑএসব প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা অধিক মনোযোগী হবো। অল্প সময়ে বড় হয় এবং অধিক রোগবালাই সহ্য করতে পারে প্রাণিসম্পদের এমন জাত নিয়ে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় বেশি গবেষণা হলে মাংসের পাশাপাশি দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য, চামড়াশিল্প প্রভৃতিরও উন্নয়ন ঘটবে। এতে মাংসের দাম কমে আসবে, এমনকি মাংস রফতানির সুযোগও বাড়বে হয়তো। গোসম্পদ খাতে বিদেশনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে দেশের অর্থ যেমন দেশে রাখা সম্ভব হবে, তেমনি সীমান্তে অস্থিরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..