সুস্বাস্থ্য

মাইগ্রেন সারাতে করণীয়

Woman with headache, computer illustration.

মাইগ্রেন মানেই মাথায় অস্বাভাবিক যন্ত্রণা। এটি এক ধরনের নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। এ যন্ত্রণা তীব্র হলে বমি হতে পারে। চোখ ও চোয়ালে ব্যথা শুরু হয়। ঘুমে সমস্যাসহ অসহনীয় পরিস্থিতির উদ্রেক করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মাইগ্রেনের সঠিক চিকিৎসা এখনও বের করতে পারেননি। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন তারা। কিন্তু এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে; ফলে শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই ওষুধ সেবন না করে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করে এ ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া এমন কয়েকটি উপায় জেনে নিতে পারেন:

# একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া না করা, অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া প্রভৃতি মাইগ্রেনের সমস্যা দীর্ঘায়িত করে। ফলে বাড়ে মানসিক চাপ। এতে মাইগ্রেন প্রকট আকার ধারণ করে। তাই এ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা উচিত

# খুব রোদ বা খুব বৃষ্টিÑদুই-ই মাইগ্রেনের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম বা শীত মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। তাই যথাসম্ভব এমন আবহাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে

# অনেকে কাজের চাপ কিংবা নানা কারণে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন। এতে গ্যাস্ট্রিকের প্রকোপ বেড়ে যায়। গ্যাস্ট্রিকের কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে। কাজেই এ সমস্যা এড়াতে দীর্ঘক্ষণ পেট খালি না রাখাই ভালো

# অনিয়মিত ঘুম মাইগ্রেনের জন্য দায়ী হতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা অ্যাপের পেছনে সময় দিয়ে অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। এতে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়ে। সুতরাং এ ব্যথা এড়ানোর জন্য প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ফোন ঘাঁটা ও টিভি দেখার অভ্যাসও কমিয়ে ফেলতে হবে। একদিন কম ঘুমালেন, আরেকদিন বেশি ঘুমালেন এমন না করে ঘুমের মাত্রা সমান রাখার চেষ্টা করুন

# অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়লে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি-জাতীয় খাবার না খেয়ে পরিমিত খাওয়াই উত্তম

# অতিরিক্ত ক্যাফেইন-জাতীয় খাবারও মাইগ্রেনে প্রভাব ফেলে। গবেষণার দেখা গেছে, যাদের ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের মাইগ্রেনের সমস্যাও তুলনামূলক বেশি। তবে হঠাৎ এ-জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিলেও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এ-জাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে

# অতিরিক্ত আওয়াজ, একনাগাড়ে জোরে আওয়াজ শুনতে থাকা, গাড়ির হর্ন প্রভৃতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এতে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে ও মাইগ্রেনের সমস্যা ডেকে আনে। এসব বিষয়ে নিজেকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..