প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মাগুরায় খেজুর গুড়ের পাটালিতে সচ্ছল অনেক পরিবার

ইমাম জাফর, মাগুরা: খেজুর গুড়ের পাটালির খ্যাতি দেশব্যাপী। শীত মৌসুমে মাগুরায় শুরু হয়েছে খেজুর রস থেকে গুড় ও পাটালি উৎপাদনের মহোৎসব। গাছিরা সন্ধ্যায় গাছে হাঁড়ি লাগান, ভোরে রস সংগ্রহ করে গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। এরপর তা বাজারে বিক্রি করেন। খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি জেলার অনেক পরিবারে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা।

মাগুরার বেশিরভাগ বাড়িতে খেজুরগাছ রয়েছে। যদিও ইটভাটার কারণে খেজুরগাছ কেটে ফেলায় আগের মতো মাঠে নেই সারি সারি গাছ। হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরগাছ। এরপরও যে একেবারে কম, তা নয়। শীত মৌসুমে গাছিরা রস সংগ্রহ করে জাল দিয়ে গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। পরে বিক্রি করেন বাজারে। তবে গাছের তুলনায় গাছি অনেক কম। যে গাছগুলো রয়েছে সেগুলো পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন গাছিরা। কোমরে মোটা রশি বেঁধে খেজুরগাছের অগ্রভাগের একটি নির্দিষ্ট অংশ চিড়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ছোট কলসি (ভাড়) বাঁধা হয়। ফোঁটায় ফোঁটায় সারা রাত ধরে রসে পূর্ণ হয় সে কলসি। তাই খেজুরগাছ কাটার অস্ত্র, কলসিসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকে বাড়ির সবাই।

মাগুরা নতুন বাজারে রোকন হোসেন, আলিম মিয়া, রফিকুল ইসলামসহ একাধিক খুচরা খেজুর গুড় ও পাটালি ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে প্রতি কেজি খেজুর গুড় বিক্রি করছেন এবং ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা দরে প্রতি কেজি পাটালি বিক্রি করছেন। পাটালি ক্রেতা অধ্যাপক শাহিদুল ইসলাম জানান, খেজুর গুড় দিয়ে বিভিন্ন রকম পিঠা, পায়েস, মুড়িমুড়কি, নাড়–, মোয়া ও চায়ে বেশ আলাদা স্বাদ হয়। এজন্য এসব গুড়ের চাহিদাও একটু বেশি।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের গাছি পিকুল হোসেন জানান, ৭৫টি গাছের রস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কেজি পাটালি বা ১৭ কেজি গুড় তৈরি হয়। শ্রীরামপুর গ্রামের মংলা, মো. মজনো, শালিখা উপজেলা এলাকার আশরাফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলার কমরাপুর গ্রামের মো. হানেফ, জহুর, রমনগর গ্রামের আকতার মণ্ডল, মহম্মদপুর উপজেলার, কোমল শেখসহ অনেক গাছি জানান, শীতে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় বা পাটালি তৈরি করা খুবই কষ্টকর কাজ। বাজারে খেজুর গুড় ও খেজুর পাটালির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, দামও অনেক বেশি। গুড় বা পাটালি বিক্রি করার জন্য কোনো কষ্ট করতে হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগে আগেই বাড়ি থেকেই বিক্রি হয়ে যায়। তিন-চার মাস খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে সারা বছরের সাংসারিক খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন অনেকে। গৃহিণী শিরিন সুলতানা জানান, বাড়িতে যেদিন খেজুর গুড়ের পিঠা-পায়েস তৈরি হয়, সেদিন পরিবারে যেন একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

মাগুরা সদর কৃষি অফিসার শুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান, জেলায় কী পরিমাণ খেজুর গাছ আছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বের করার চেষ্টা চলছে এবং খেজুর গুড় ও পাটালি থেকে কী পরিমাণ অর্থ উপার্র্জন হয়, তাও জানার চেষ্টা চলছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম সাহা জানান, মাগুরায় কী পরিমাণ খেজুরগাছ আছে বা কী পরিমাণ খেজুর গুড় ও পাটালি উৎপাদন হয়, এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তথ্য নেই। উৎপাদিত খেজুর গুড় বা পাটালি থেকে কী পরিমাণ অর্থ উপার্জন হচ্ছে এ বিষয়ে

কোনো তথ্যও নেই কৃষি বিভাগের কাছে। অথচ মাগুরার অর্থনীতিকে খেজুর গুড় ও পাটালি ভূমিকা রাখছে।