সম্পাদকীয়

মাছের মড়ক প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্যসম্পদের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ-সবল জনশক্তি সৃষ্টিতে মাছের অবদান কম নয়। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণিজ আমিষের মধ্যে মাংসের চেয়ে মাছ অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ। এটি অপেক্ষাকৃত সুলভও বটে। আমাদের খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৫৮ শতাংশ আসে মাছ থেকে। জাতীয় আয়ের প্রায় পাঁচ শতাংশ এবং কৃষিসম্পদের ১৫ শতাংশ মৎস্য খাতের অবদান। রফতানি আয়েও মৎস্য খাতের অবদান অনস্বীকার্য।
সারা দেশে রয়েছে অসংখ্য নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর। মৎস্য উৎপাদন ও চাষের বিস্তৃত এসব ক্ষেত্রে রয়েছে অসংখ্য প্রজাতির মাছ। এসব মাছ সুস্বাদু ও সহজপাচ্য। মাছ তাই বাঙালিদের প্রিয়। আবহমান কাল থেকে মাছ-ভাতের ওপর বাঙালিদের নির্ভরতার কারণে এ দেশের মানুষের পরিচয় হয়েছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’।
মৎস্য আহরণ, সরবরাহ ও বিপণনে প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিক সার্বক্ষণিকভাবে এবং এক কোটি ২৫ লাখ শ্রমিক খণ্ডকালীনভাবে নিয়োজিত আছে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, কর্মসংস্থানে, দারিদ্র্য বিমোচনে ও প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি দূরীকরণে মৎস্য খাতের উন্নয়নসাধন অপরিহার্য। অর্থনীতি ও জনজীবনে অবদান বিবেচনায় সরকার মৎস্য উৎপাদন, চাষ ও গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছে স্বাধীনতার পরপরই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।
বর্তমানে মৎস্যবিষয়ক বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থা কাজ করছে। সময় সময় নীতিমালাও প্রণীত হয়েছে। যেমন, জলাধার, পুকুর উন্নয়ন, মৎস্য সংরক্ষণ, খাদ্য আইন, মৎস্য হ্যাচারি, মৎস্য সঙ্গনিরোধ আইন প্রভৃতি। সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। প্রাকৃৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। গত বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এফএও’র তথ্যমতে, চাষ ও প্রাকৃতিক উৎসের মাছ মিলিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ।
এফএও এবং বাংলাদেশের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী-হাওর-বাঁওড়-বিল ও অন্যান্য উম্মুক্ত জলাশয় থেকে আহরণ করা মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশের উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি।
এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবর ‘হাকালুকিতে ভাসছে মরা মাছ’ শীর্ষক সংবাদ নিশ্চয়ই হতাশার। দেশের বৃহত্তম হাওরটিতে কয়েক দিন ধরে মাছ মরে ভেসে উঠেছে বলে খবরে বলা হয়। অবশ্য মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন। প্রায়ই বিভিন্ন জলাশয়ে মরা মাছ ভেসে ওঠার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্যসম্পদের অবদান এবং এ খাতে বিপুল জনগোষ্ঠীর নির্ভরতা বিবেচনায় মাছের মড়কের কার্যকারণ চিহ্নিত করে আশু ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..