মাজরার আক্রমণে ফলন কমার আশঙ্কায় যশোরের কৃষকরা

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: মাজরা পোকার উপদ্রবে চলতি বছর আমন আবাদে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন যশোরের কৃষকরা। সব উপজেলায় কম-বেশি আমন ক্ষেতে মাজরা দেখা গেছে। তবে বাঘারপাড়া, চৌগাছা ও অভয়নগর উপজেলায় তুলনামূলক বেশি। অবশ্য কৃষি বিভাগ বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে হারে মাজরা ধানের ক্ষতি করেছে সে তুলনায় এখনও এ জেলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে এ নিয়ে কৃষককে দুশ্চিন্তা না করে পোকার বিস্তার রোধে কীটনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ক্ষেতের অবস্থা অনেক ভালো। বেশিরভাগ জমির ক্ষেতের ধান এখন শীষ গজাতে শুরু করেছে। কিন্তু এরই মধ্যে আমন ক্ষেতে মাজরার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের জানানো হয়েছে।

বাঘারপাড়ার জামদিয়া এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের এলাকায় আমন ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেতে কম-বেশি পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমরা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছি। কিন্তু তা পুরোপুরি মারা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, পোকার আক্রমণ এখনও ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। তবে এটি যদি ব্যাপকতা পায় তাহলে এ বছর নিশ্চিত আমন আবাদে আমরা ক্ষতিতে পড়ব।

একই কথা বলেন, উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষেতে মাজরার উপদ্রব দেখা দিলে স্থানীয় কৃষি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিই। তার পরামর্শে ক্ষেতে স্প্রে করেছি। এখনও ক্ষেতে পোকা আছে। তবে দু’এক দিন না গেলে বলতে পারছি না কী অবস্থা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধার-দেনা করে এ বছর আমন আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্ষেতের অবস্থা খুব ভালো। এখন যদি পোকার কারণে আমরা ফলন কম পাই তাহলে মরা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আমন আবাদের ওপর নির্ভর করছে সামনে বোরো আবাদ। আমন আবাদ করেই বোরোর খর মেটানো হয়। ফলে আমনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বোরোর চাষ করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস বলেন, জেলার প্রায় সব এলাকায় মাজরার উপদ্রব আছে। তবে তা সামান্য। আমরা প্রাথমিকভাবে একটি ধারণা নিয়েছি, আট উপজেলায় মোট আবাদের দুই শতাংশ জমিতে পোকা লেগেছে। কৃষকরা এখন থেকে নিবিড় পরিচর্যা করলে সহজে সাফল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

একই কথা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমন ক্ষেতে মাজরার আক্রমণ হচ্ছে বলে বিভিন্নভাবে খবর পেয়ে আমি গত তিন দিন ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরজমিন গেছি। সেখানে মাঠে মাঠে গিয়ে যে চিত্র দেখেছি তাতে কৃষকের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন পর্যন্ত যশোরে যে হারে পোকার আক্রমণ হয়েছে তা হিসাবের আওতায় আসে না। এটি স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে।  তারপরও আমরা কৃষকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে আমন ক্ষেতে কার্যকর কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি বলেন, যশোরের আট উপজেলার কৃষিজমিতে আমন আবাদের যে চেহারা দেখা যাচ্ছে তাতে সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..