আজকের পত্রিকা কৃষি কৃষ্টি

মাটির গুণ বাড়াতে একাধিক চাষ

জমিতে গাছের বৃদ্ধির জন্য যেসব খাদ্য উপাদান প্রয়োজন, তার বেশিরভাগ আসে মাটি থেকে। তাই মাটির কিছু গুণাবলি থাকা আবশ্যক। তবে সব গাছ সব খাদ্য সমান পরিমাণে গ্রহণ করে না। কোনো গাছ মাটির ওপর হতে খাদ্য খায়, আবার কোনোটি মাটির নিচের স্তর থেকে গ্রহণ করে। জমিতে পরপর একই জাতীয় ফসল চাষ করলে মাটি নির্দিষ্ট স্তরে অনেক খাদ্য উপাদান তৈরি করতে পারে না। এতে খাদ্য উপাদানের অভাব পড়ে। তাই জমিতে নানা সময়ে নানা ফসল চাষ করা প্রয়োজন। এতে অল্প সার প্রয়োগ করে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে।

চাষকৃত জমিতে একই ধরনের ফসল চাষ না করে নানা ধরনের ফসল একত্রে চাষ করলে মাটির গুণ বৃদ্ধি পায়। একই জমিতে একাধিক চাষ বা একই ফসল একাধিকবার চাষ না করে ফসল পরিবর্তন করে চাষ করার এ পদ্ধতিকে ফসলক্রম বলা হয়। আমন ধান চাষের পর আবার বোরো চাষ না করে কোনো রবিশস্য চাষ করেও ফলন বাড়ানো সম্ভব। রবিশস্য চাষ অন্তর্ভুক্তির কারণে জমিতে সবুজ সারের ব্যবহার চোখে পড়ে। এতে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

অগভীর মূল বা এ-জাতীয় ফসল যেমন ধান মাটির উপরিস্তর থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। পরপর এ-জাতীয় ফসল চাষ করলে উপরিস্তরের খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। অপরদিকে নিচের স্তরে খাদ্য উপাদান বেশি থেকে যাবে। আবার গভীর মূলবিশিষ্ট ফসল যেমন বেগুন, আলু, পাট প্রভৃতি ফসল চাষ করলে মাটির উপরিস্তরে খাদ্য উপাদান বেশি থাকে। এতে সারের অপচয় হয়। তাই একই জমিতে নানা ফসলের চাষ কিংবা পরপর ফসল পরিবর্তন করে চাষ করলে

এ-জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

তাছাড়া নানা ধরনের ফসলের নানা চাহিদা থাকে। যেমন, পাতাজাতীয় শাকসবজি মাটি থেকে অধিক পরিমাণে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে, আবার মূলজাতীয় ফসল বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে ফসল পরিবর্তন করে চাষ করলে মাটিতে খাদ্য উপাদানের সমতা রক্ষা করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে নানা ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। এছাড়া এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে জমির উপরিস্তরে ক্ষয় হয় না, তাতে জমির উর্বরতাও নষ্ট হয় না। ভ‚মি ক্ষয় কমে যায় ও সঙ্গে লবণাক্ততা কমে যায়। ফলে যে মৌসুমে লবণাক্ততা বেশি অর্থাৎ অগ্রহায়ণ-বৈশাখে লবণাক্ততা সহ্যকারী ফসল যেমন তিল, গম প্রভৃতি সহজে আবাদ করা যায়।

ফসলক্রমের নানা ফসল নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে ফসলক্রমের ফসল চাষ করা প্রয়োজন। যেমন:

স        জমির মাটি ওই ফসল উৎপাদনের উপযোগী কি না, তা যাচাই করা

স        ফসল উৎপাদনের জন্য যতটুকু পানি প্রয়োজন, তা পাওয়া যাবে কি না

স        যে ফসল চাষ করতে চান, সে ফসল আবহাওয়া অনুযায়ী উপযুক্ত কি না

স        ফসল উৎপাদন করলে তা বাজারে বিক্রি হবে কি না

স        পরপর একই জাতীয় ফসল চাষ যাতে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে

স        অগভীর মূল ফসলের পর গভীর মূল ফসল চাষ করার প্রস্তুতি নিতে হবে

স        খাদ্য ও অর্থের চাহিদা একই সঙ্গে যাতে পূরণ হয়, সেদিক থেকে ফসল নির্বাচন করতে হবে। যেমন সরষে চাষ করে অর্থ পাওয়া যাবে, তারপর আউশ ধান চাষ করে খাদ্য পাওয়া যাবে

স        বেশি সেচ লাগে, এমন ফসলের পর কম সেচ লাগেÑএমন ফসল চাষ করতে হবে

সবশেষে বলা যায়, ফসলক্রম পদ্ধতি অবলম্বন করে যেমন মাটির গুণ বৃদ্ধি করা যায়, তেমনি বিভিন্ন ধরনের আগাছা, রোগ ও পোকামাকড়ের হাত থেকেও ফসল রক্ষা পাওয়া যায়। আবার একই সঙ্গে ফসল ও অর্থ দুটোই পাওয়া যায়।

হ কৃষি-কৃষ্টি ডেস্ক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..