মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বাড়ল ১৬ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, এটির ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদও সাড়ে তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির এ সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পটির সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শরীফা খান বলেন, ‘প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা খালাসের অবকাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ওই এলাকার অবস্থানগত কারণে এটিকে বন্দর হিসেবে উন্নীত করতে চায় সরকার।’ তিনি বলেন, ‘বন্দর হিসেবে করতে গিয়ে চ্যানেল, জেটি, ভূমি উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অংশের ভৌত নির্মাণকাজ পরামর্শক সেবা অংশে পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়।’

তিনি আরও বলেন, এ বন্দরের গভীরতা ১৪ মিটার থেকে সাড়ে ১৮ মিটার এবং প্রশস্ততা ২৫০ মিটার থেকে ৩৫০ মিটার করা হবে। এছাড়া টাউনশিপ নির্মাণ অঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে।

এ সময় প্রকল্পটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘এখানে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। কয়লা বিদ্যুৎ, সোনাদিয়া পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও আরও কার্যক্রম হবে। মাতারবাড়ীতে টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে। এই সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় করার জন্য একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

২০১৪ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এখন সংশোধন করে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়ানো হলো। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পটিতে আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়ন করার কথা ছিল ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এবার সে ঋণ বাড়িয়ে জাইকা মোট দিচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পটিতে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পটিসহ বৈঠকে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে ১১ হাজার ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে ১৮ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা।

বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑঅবকাঠামোগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ প্রকল্প। এর ব্যয় ১১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৫০৬) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৬) প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৮০ কোটি টাকা, এস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ (আরটিআইপি-২) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পে ব্যয় না বাড়লেও মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা, হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা, খুলনা জেলার পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা এবং ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৫৭ কোটি টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..