সুস্বাস্থ্য

মাথাব্যথার রকমফের

অনেকের নিত্যসঙ্গী রোগ মাথাব্যথা। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী রোগটি স্বাভাবিক অবস্থার কাতারে পড়ে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুতর অসুখের ইঙ্গিতও দেয়। অনেকের হুটহাট মাথাব্যথা শুরু হয়। নিশ্চয়ই এর পেছনে কারণ রয়েছে। একেক ধরনের ব্যথা একেক কারণে হয়ে থাকে। আর এ কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে পরিচিতি দিয়েছেন। মাথাব্যথার রকমভেদ জেনে রাখতে পারেন।

সাইনাস
একটু ঠাণ্ডা লাগলেই সাইনাসের ব্যথা শুরু হয়। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের পর এ ব্যথা দেখা যায়। সাইনাসের ব্যথা প্রথমে কপালজুড়ে শুরু হয়। এরপর চোখের চারপাশ ও গালে অনুভূত হয়। এ সময় পুরো মুখমণ্ডলে ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেক সময় নাক বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়তে থাকে। এ ধরনের ব্যথায় চোখে ভীষণ যন্ত্রণা হয়। ব্যথা এক দিনের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

দুশ্চিন্তাজনিত
অনেক মানুষ দুশ্চিন্তাজনিত ব্যথায় ভুগে থাকে। সারা দিনের নানা ধরনের দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, বিশ্রামের অভাব, পরিবেশদূষণ, টিভি বা কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় বসে থাকা, পানি কম খাওয়া প্রভৃতি কারণে এ মাথাব্যথা হয়। কোনোকিছু নিয়ে দীর্ঘসময় চিন্তিত থাকা বা ঘুমের সময় সঠিকভাবে মাথার অবস্থান না থাকার কারণেও ব্যথা হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখুন। সমস্যা দীর্ঘদিনের হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ট্রিগেমিনাল নিউরালজিয়া
মুখের স্নায়ুগুলোয় এ ব্যথা অনুভব হয়। স্নায়ুতন্ত্রগুলোর ভেতরে সংক্রমণ কিংবা ব্যাধির কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। ঠাণ্ডা লাগা বা ঠাণ্ডা কিছু খাওয়ার কারণেও হতে পারে। সাধারণত এ ব্যথা কয়েক মিনিট অনুভূত হলেও দিনে বেশ কয়েকবার হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ ব্যথা কিছুক্ষণ পরপর উঠতে পারে। এটি বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। ব্যথা মোকাবিলায় ব্যথা উদ্রেককারী খাবার ও পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

মাইগ্রেন
মাইগ্রেনের ব্যথা অধিকতর তীব্র ও যন্ত্রণাময়। এ ব্যথা হওয়ার আগে অনুভব করা যায়। মাথাব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মাথার খানিকটা অংশ জুড়ে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে। চোখে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। সেইসঙ্গে বমিও হয়। ব্যথার কারণে রোগী আলো সহ্য করতে পারে না। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মাথায় রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণে মাইগ্রেন হয়। কিছু খাবার যেমন চকোলেট, পনির, কফি, অতিরিক্ত ঝাল, জš§বিরতিকরণ ওষুধ প্রভৃতি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এছাড়া রোদে যাওয়া বা ঠাণ্ডা, দুশ্চিন্তা, ভ্রমণ প্রভৃতি কারণেও হয়ে থাকে। মাইগ্রেনের পুরোপুরি নিরাময়ের কোনো চিকিৎসা এখনও নেই। তবে কিছু ওষুধ ব্যথা উপশমের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খেতে পারেন।

ক্লাস্টার হেডেক
এ ধরনের মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হয়ে বেশ তীব্র হয়ে ওঠে। মাথার যেকোনো একপাশ থেকে ব্যথা শুরু হয়ে অনেক সময় দেখা যায় চোখের দিকেও হয়ে থাকে। অনেকেই একে মাইগ্রেন মনে করলেও মূলত এটি ক্লাস্টার হেডেক। এর স্থায়িত্ব পাঁচ থেকে ১০ মিনিট হতে পারে। কখনও কখনও ঘণ্টাখানেকও স্থায়ী হতে পারে। দেখা যায়, এ ধরনের মাথাব্যথায় নাক, চোখ বা মাথার যেখানে যেখানে ব্যথা হয়, সেখানে লাল হয়ে যায়। তীব্র আলো, ঘ্রাণ বা গন্ধ ও শব্দে এ ধরনের ব্যথা বেড়ে যায়। এমন হলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ ব্যথাতেও ওষুধ খাওয়া আবশ্যক। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ খেতে হবে।

সেকেন্ডারি
ভয়ংকর সব রোগের কারণে এ মাথাব্যথা হয়। ব্রেনের কোনো সমস্যা যেমন টিউমার, সিজার, ব্রেনের রক্তনালিতে কোনো ইনফেকশন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ প্রভৃতি এ ব্যথার মূল কারণ। এ ধরণের মাথাব্যথা শুরু হলে জ্বর হয় ও শরীরের ওজন কমতে থাকে। এ ধরণের মাথাব্যথায় দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

টিএমজে
টেমপোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট (টিএমজে) একটি মারাত্মক মাথাব্যথার উপসর্গ। কপাল ও চোয়ালের পেশিতে সংকোচনের কারণে এ ব্যথা অনুভূত হয়। এ সময় মাথার ওপরের দিকে কানের দু’পাশে যন্ত্রণা হয়। তবে এ ব্যথায় তেমন ভয়ের কিছু নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারলে এ ব্যথা দূর হয় দ্রুত।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..