সম্পাদকীয়

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ জোরদার করুন

 ‘ইয়াবার পথ ধরে আসছে আইস’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এতে বলা হয়, লকডাউনের আদলে বিধিনিষেধের আগে-পরে ইয়াবা ব্যবসার পথ ধরে নোয়াখালীতে ভয়ংকর ও নতুন মাদক আইস আসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা বলছেন, কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢিলেঢালা তদারকির সুযোগে ইয়াবার প্রসারও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে কেউ ধরা পড়লেও জব্দকৃত মাদক পণ্যের পরিমাণ কম দেখিয়ে জামিন পেতে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে।

থাইল্যান্ড-মিয়ানমার হয়ে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাদকের চালান ঢুকছে বাংলাদেশে। আর তা ছড়িয়ে পড়ছে। সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে বড় মাদক কারবারিরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অভিযান সফল হয় না। তাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিততে হলে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে ভেতর-বাইরে। কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা পর্দার অন্তরাল থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন মর্মেও জানা যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য নানাভাবে মাদকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে অভিযানের খবর আগেই জেনে যায় মাদককারবারিরা। গষেষকরা বলছেন, দেশে ৮০ শতাংশ সামাজিক অপরাধ ঘটে মাদকের কারণে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় বাধা। কিন্তু এককভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে দেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য জনসচেতনতা ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সোচ্চার অবস্থান প্রয়োজন। এ কাজটি শুরু করতে হবে নিজ পরিবার থেকেই। প্রচলিত মাদকের বাইরে অপ্রচলিত মাদকের বিস্তারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সর্বব্যাপী বিস্তার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

মাদকদ্রব্য বিপণন ও বাজারজাতকরণের লাইসেন্সপ্রাপ্তি কিংবা লাইসেন্স স্থানান্তর, সালফিউরিক অ্যাসিড ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড আমদানির লাইসেন্সের অনাপত্তিপত্র প্রদান, মাদকদ্রব্য খুচরা বিক্রির লাইসেন্স প্রদান প্রভৃতিতে যাতে আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বৈধ পণ্যের আড়ালে যাতে কোনো মাদকদ্রব্য আমদানি না হয়, অ্যালকোহল উৎপাদন (ডিস্টিলারি, ব্রিউয়ারি) লাইসেন্স প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

দেশে মাদকদ্রব্যের চাহিদা কমাতে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ করতে হবে। ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার্য বৈধ মাদকের শুল্ক আদায় সাপেক্ষে আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হলে তা চেপে না গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে। মাদকে আসক্ত হলে তা পুরো পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যারা মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিয়েছে, তারা যাতে পুনরায় মাদকে আসক্ত না হয়, সেজন্য পরিবার ও সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..