সারা বাংলা

মানবতাবিরোধী অপবাধ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও হলিধানী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মিয়াসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সদরের নারায়ণপুর ত্রিমোহনী থেকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার মো.হাসানুজ্জামান জানান, মানবতাবিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুয়ায়ী আবদুর রশিদ ও শাহেব আলী নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য আশির উদ্দীন তার এলাকার ছয় রাজাকারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।  আদালত মামলাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে সে সময় মামলাটি আপস করতে বাধ্য হন মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীন। পরে তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে আরেক দফা অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে আশির উদ্দীন উল্লেখ করেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি পক্ষ ত্যাগ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশ স্বাধীনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ খবর জানতে পেরে রাজাকার মসলেম উদ্দীন, আবদুর রশিদ, আলাউদ্দীন, হাকিম আলী খোন্দকার, শাহজাহান, আসমত, শাহেব আলীসহ ৫০ রাজাকার কোলা গ্রামে তার বাড়ি ঘেরাও করে। আশির উদ্দীন ও তার আরেক ভাই মহিরুদ্দীন এ সময় কাশিপুর গ্রামের দিকে পালিয়ে যান। রাজাকাররা তাদের দুই ভাইকে না পেয়ে বড় ভাই আজিবর মণ্ডল, হবিবার মণ্ডল ও আনসার মণ্ডলকে ধরে নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের সেতুর নিচে হত্যার পর লাশ গুম করে। আসামিরা এ সময় তাদের পাঁচটি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের আরও ২৫টি বাড়ি জ্বলিয়ে দেয়। রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বৃদ্ধ বাবা দুখী মাহমুদ ও মা কামিনী খাতুনকে। মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীনের মৃত্যুর পর তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন দেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে আরেক দফা অভিযোগ করেন বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে। গত ৯-১০ মাস আগে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল তদন্তে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও স্বজনদের হত্যার প্রমাণ সংগ্রহ করে।

এ বিষয়ে আবদুর রশিদের বড় ছেলে হারুন অর রশিদ জানান, কে বা করা আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে, তা আমি বলতে পারি না। তবে ঝিনাইদহের কোনো জায়গায় খুঁজে আমি আমার বাবার সন্ধান পাইনি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন জানান, দুই রাজাকার গ্রেফতার বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলার খবর তিনি জানেন না।

সর্বশেষ..