প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মানবশিশু কেন পথশিশু হবে?

বাংলাদেশে রাস্তার শিশুদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই আর তাদের সংখ্যা নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব, যা বছরে বাড়ছে। বাংলাদেশে রাস্তার শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, যারা ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের উদ্দেশ্যে কাজ করে অথচ যারা অন্য কাজ করে তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাও জিনিসপত্র বিক্রি করে কাজ করতে পারে অথবা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাদের জীবনযাপন। বাংলাদেশের অধিকাংশ রাস্তার মেয়েরা ১০ বছর বয়স থেকে বিবাহিত, তাদের খুব কঠিন জীবনে নেতৃত্ব দেয় অথচ পুরুষ শিশুদের পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। রাস্তার শিশুদের বসবাসের জায়গা নেই বা এমনকি ঘুমও নেই, তারা রাস্তা পেরিয়ে আসতে পারে, গোলাপ বিক্রি করে। বাংলাদেশের অনেক রাস্তার ছেলেমেয়ে কম বয়সে মারা যায়, তারা প্রয়োজনীয় যত্ন ও পাচ্ছেন না। রাস্তার শিশুরা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম, যা অনেক সময় তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত নয় এমন খাবার খেতে বাধ্য করে। রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত অপরাধ ব্যাপক, যেখানে সংঘটিত অপরাধ গোষ্ঠীর নেতাদের ‘মাচাবাসী’ বলা হয় এবং সারাদেশে, বিশেষত রাজধানী ঢাকার বস্তিতে তাদের কাজ ছড়িয়ে পড়ছে।

পথশিশুদের স্কুলে যাওয়ার সঙ্গে নেই। তাই তাদের সঠিক শিক্ষা লাভের সুযোগ নেই। অথচ এই শিশুদের জন্য শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের যদি সঠিক শিক্ষা না থাকে, তাহলে তাদের বাকি জীবনও দুর্বিষহভাবে কাটাতে হবে।

পথশিশুরা বঞ্চনার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। তাই যখনই তারা কারও কাছ থেকে একটু আন্তরিকতা, ভালোবাসা বা টাকার প্রলোভন পায়, তখন তারা যে কোনো কিছু করতে পারে। তাই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এদের কাজে লাগিয়ে মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অবৈধ ও অনৈতিক কাজ করিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য খুবই বিপজ্জনক।

পথশিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা দরকার। অনেকে মনে করে, পথশিশুরা তো পথের মানুষ আর ওটাই তাদের ঠিকানা, তাই অধিকাংশ সময়েই মানুষ তাদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করে না। এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। এদের পথশিশু বলা উচিত নয়। রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদেরও রয়েছে অনেক দায়িত্ব। তাদেরও প্রয়োজন বস্ত্র, খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং সবচেয়ে বেশি জরুরি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা।

-সাঈমা আক্তার

শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়