নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ আদায় করেই রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত ও অধিকার সুরক্ষিত করা হবে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিনেই ফজরের নামাজ পড়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়; এটি একটি আমানত।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-সবার দেশ। এখানে কেউ ভয়ের সংস্কৃতিতে বাস করবে না। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভাষণে তিনি জুলাই মাসের আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরাচারী শাসনের ফলে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ধ্বংস করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তরুণ প্রজš§ একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ২.০’ দেখতে চায়। পরিবর্তনের সাহস তরুণদের মধ্যেই রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই তুলে দিতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি বোঝা, সাহসী ও মেধাবী তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।
নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং সমাজও রাষ্ট্রের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন। করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতিÑসব ক্ষেত্রে নারীদের মেধার মূল্যায়ন করা হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানÑএই পাঁচ বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিতে ‘না’ বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সব দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post