মত-বিশ্লেষণ

মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে

মারাত্মক অপুষ্টির শিকার শিশুর মা-বাবাদের এক সপ্তাহের বদলে একসঙ্গে এক মাসের রেডি টু ইউজ থেরাপিউটিক ফুড (আরইউটিএফ) দেয়া হয়েছে, যাতে তাদের পুষ্টি সেন্টারে কম আসতে হয়। তবে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মারাত্মক অপুষ্টির শিকার শিশুরা ফলোআপ সেবা নিতে প্রতি দুই সপ্তাহে এক দিন পুষ্টি কেন্দ্রে আসতে পারে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের ১১ শতাংশই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগে। এর আগে প্রতি মাসের জন্য কমিউনিটি নিউট্রিশন ভলান্টিয়ার বা পুষ্টি কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবকরা অপুষ্টির শিকার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক লাখ ৩৫ হাজার শিশু চিহ্নিত করে। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কভিড-১৯ প্রতিরোধের উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা কার্যকম হ্রাস পাওয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশু চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে।

কভিড-১৯ সংকটের এই সময়ে ইউনিসেফ মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিহ্নিত ও তাদের কমিউনিটিকে সহায়তা করার বিষয়ে এই বিশেষ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মা ও কিশোরীরা কীভাবে তাদের শিশুসন্তান ও ভাইবোনের ওপরের বাহুর মধ্যবর্তী স্থানে একটি রঙিন টেপ লাগিয়ে পরিমাপ করবেন, সে বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা আগেই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। রঙিন টেপ দিয়ে পরিমাপের এই বিষয়টি অপুষ্টির তীব্রতা নির্দেশ করে।

এই পদ্ধতির ইতিবাচক ফলও এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। গত মার্চে লকডাউনের প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় মে মাসের মাঝামাঝি পুষ্টি কেন্দ্রে নতুন ভর্তি বেড়েছে চারগুণ। যদিও কভিড-১৯ প্রতিরোধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোয় সহায়তাকর্মীদের চলাফেলা এখন নিয়ন্ত্রিত, তবু ইউনিসেফ সেখানে আরও বেশিসংখ্যক মা ও সেবাপ্রদানকারীকে ওই প্রশিক্ষণ দিতে কর্মসূচিটির কার্যক্রম সম্প্রসারিত করছে। ইউনিসেফের লক্ষ্য হলো নজিরবিহীন এই মহামারির মধ্যে শিশুদের অবশ্যই অগ্রাধিকারে রাখতে হবে এবং সেটা হতে হবে তাদের অবস্থান নির্বিশেষেÑতারা যেখান থেকেই আসুক অথবা সেখানেই বসবাস করুক। একটি শিশু সব সময়ই একটি শিশু।

শিশুরা যখন লেখাপড়া ও স্বাভাবিক রুটিনের বাইরে থাকে এবং তাদের মা-বাবাও যখন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যস্ত, তখন তারা অবহেলা, শোষণ ও অপব্যবহারের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাই শিশুদের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে। ইউনিসেফের প্রায় দুই হাজার সহযোগী এবং স্বেচ্ছাসেবীর নেটওয়ার্ক শিশু ও তাদের পরিবারগুলোকে সুরক্ষার বার্তা সরবরাহ করে চলেছে; পাশাপাশি সহিংসতা, শোষণ, অপব্যবহার ও অবহেলার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..