মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে

প্রকাশ: ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ সময়- ১১:৩৮ অপরাহ্ন

একসময় বলা হতো জনবহুল দেশগুলোর উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা অতিরিক্ত জনসংখ্যা। কিন্তু জনসংখ্যা যে বোঝা নয়, বরং সম্পদ তা বুঝতে সময় লেগেছে ঢের। এখন জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তাই তো চীন এক সন্তান নীতি থেকে সরে এসে থেকে দুই সন্তান নীতির প্রচলন করেছে। তবে জনসংখ্যা এমনি এমনি সম্পদে পরিণত হয় না। এ জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া লাগে। মূলত উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হয়। তবেই সেটা মানব উন্নয়নের পর্যায়ে পৌঁছে। গত কয়েক বছর ধরেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি হচ্ছে বাংলাদেশের। এ অগ্রগতি যাতে অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত বুধবার ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৯’ প্রকাশ করেছে ইউএনডিপি। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ১৮৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম। আগের বছর যা ছিল ১৩৬তম। এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে তার আগের দুই বছর বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছিল তিন ধাপ করে। সে হিসাবে অগ্রগতির গতি শ্লথ হচ্ছে। তাই অগ্রগতি যাতে বিঘিœত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। তাছাড়া মানব উন্নয়নে প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ওপরে। পাশাপাশি মালদ্বীপ, ভারত ও ভুটানও বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্টের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনসহ সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় এগিয়ে বলে জানা যায়। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মানব উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে থাকা সুখকর নয়। আরও কোন কোন বিষয়ে উন্নতি সাধন করলে মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি সম্ভব, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। আর দুর্বলতা চিহ্নিত করা কঠিন কাজ বলে মনে হয় না। কারণ, কোনো কোনো বিষয়ের ওপর ভর করে এ সূচক তৈরি হয়, তা আমাদের জানা।

প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ও সম্পদের উৎস, বৈষম্য, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আর্থিক প্রবাহ, যোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য ও জনমিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করে ইউএনডিপি। এসব বিষয়ে কোনটি আমাদের দুর্বলতা রয়েছে, তা সহজে চিহ্নিত করা যায় বলে মনে করি। কাজেই মানব উন্নয়নে সরকার আরও সচেষ্ট হয়ে কাজ করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।