সম্পাদকীয়

মানব মূলধনের মানোন্নয়নে এখনই মনোযোগ দিন

বিশ্বের দেশগুলোর অবস্থান জানতে বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন পরিসংখ্যান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মাত্রিকতার মান, সেগুলোর অগ্রগতি, মানব উন্নয়নের অসমতা ও বৈষম্য জানা গেলে প্রতিকার ও উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ। এ বিষয়গুলো নিয়ে দেশে দেশে আলোচনা ও বিতর্ক হবে, করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ আসবে। ফলে নীতিনির্ধারকদের চিন্তা-চেতনায় পরিসংখ্যানটির প্রভাব অনস্বীকার্য।

মানব উন্নয়ন সূচকের মৌলিক বিষয় হলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান। এই তিনটি বিষয়ে সামষ্টিক সূচক দিয়ে মানব উন্নয়নের দিকগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে, কোন জায়গায় আমাদের অর্জন আত্মতৃপ্তি দেয় এবং আরও ভালো করতে কিসে মনোযোগ দিতে হবে। এসব জানা থাকলে সমস্যার উত্তরণ সহজ হবে, সহজ হবে এগিয়ে যাওয়াও। 

বিশ্বব্যাংকের মানব মূলধন সূচকে এবার নেপাল ও ভুটানের চেয়ে আমরা পিছিয়ে আছি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের এমন সূচক আমাদের জন্য সুখবর নয়। গত বুধবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মানব উন্নয়ন সূচকের হালনাগাদ সূচক প্রকাশ করে ব্যাংক।

এতে বলা হয়, তালিকায় ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম। বাংলাদেশের স্কোর দশমিক ৪৬। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। দেশটির অবস্থান ৭১তম।

আশার কথা, মানব মূলধনের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের তুলনায় ২০২০ সালে আমাদের অগ্রগতি লক্ষণীয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের স্কুলগামিতার গড় সময় ছিল ৮ দশমিক দুই বছর। বর্তমানে তা ১০ দশমিক দুই বছর। শিক্ষা খাতে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে  বিশ্বব্যাংক বলছে।

করোনাভাইরাসের কারণে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত খর্বতার হার বাড়বে এবং কভিডের প্রভাবে মানব মূলধন সূচকে বাংলাদেশের স্কোরও নি¤œগামী হয়ে বর্তমানে দশমিক ৪৬ থেকে দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে আসতে পারে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৈষম্য কমানোয় আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে। সরকারের প্রণোদনার ভর্তুকি প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে বৈষম্য বাড়ছে। যেমনÑও লেভেল, এ লেভেল পাস করা শিক্ষার্থীরা অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকছেন। এখানে যাতে সমতা বিরাজ করে কিংবা যোগ্যতা অনুসারেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় সেটির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এমন কিছু লোকের হাতে রয়েছে, যারা নীতিনির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখেন। উন্নয়ন ব্যয়ে অসাধুতার কারণেও বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ পেতে বৈষম্যহীন শিক্ষা ও শ্রমবাজার গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক বিনিয়োগ আরও বেশি বাড়ানো দরকার। তাই ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।

মানব মূলধন সূচক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য উপাদান। মানবসম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অন্যান্য উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দিয়ে মানবসম্পদকে অধিকতর দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে তুলতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..