সম্পাদকীয়

মানসম্পন্ন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করুন

রোগীকে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কাজে ব্যবহার হয় অ্যাম্বুলেন্স। এটি ছোটখাটো চিকিৎসাকক্ষও বটে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য জীবনরক্ষাকারী অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীও অ্যাম্বুলেন্সে স্বস্তিবোধ করেন। রাস্তায় চলাচলে রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। কিন্তু সেই অ্যাম্বুলেন্সও হতে পারে নীরব ঘাতক, এগুলোয় ব্যবহার্য মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার যেন এক ধরনের বোমা।

নি¤œমানের সিলিন্ডার (এলপিজি বা সিএনজি) বিস্ফোরণে যানবাহনে বা বাসাবাড়িতে প্রাণহানির খবর নতুন নয়। এমন প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ও যুক্তি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এমন সময় অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চয়ই বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দেবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে রোগীসহ দুজন নিহত ও চারজন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহতদের একজন মারা যান। অ্যাম্বুলেন্স চালকের খোঁজই পাওয়া যায়নি বলে সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে।

সিলিন্ডারের মানের প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন। নিয়ম মেনে রক্ষণাবেক্ষণ হলে প্রতিটি সিলিন্ডার নাকি ৪০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। আমাদের দেশে সিলিন্ডারগুলো পরিবহন পর্যায়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ বছর অন্তর বিস্ফোরক অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে সিলিন্ডার রি-টেস্ট করানোর নিয়ম আছে। এতে উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী ১০ বছর ব্যবহারের অনুমোদন পায় উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো। এটি পরিপালিত না হলে গ্রাহকের কাছে চলে যায় ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার। এখন সারা দেশে সিএনজিচালিত যানবাহন রয়েছে কয়েক লাখ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, এসব যানের গ্যাস সিলিন্ডার পাঁচ বছর অন্তর রি-টেস্ট করার বিধান রয়েছে। এটি পরিপালন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রায়ই গাড়ি বা বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে হতাহত হচ্ছে মানুষ।

আমাদের দেশে তৈরি কোনো কোম্পানির সিলিন্ডারে গ্যাস লিক করে। এ কারণে কোনো বিদেশি কোম্পানি এখন পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করে না। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপিজিসিএলও আমদানি করা সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ সম্পর্কিত সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে দুর্ঘটনার খবরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে। জ্বালানি হিসেবে এলপিজি বাসাবাড়ি বা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে নয়, এখন যানবাহনেও ব্যবহার বাড়ছে। সরকারও রান্নায় এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে। এরই মধ্যে সরকার বলেছে, আবাসিক পর্যায়ে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। তাই রান্না কিংবা যানবাহনে সেখানেই ব্যবহার করা হোক না কেন, মানসম্পন্ন সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ..