মত-বিশ্লেষণ

মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ

কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী তরুণদের ‘মানসিক স্বাস্থ্য’র বিষয়টি সামনে এনেছে। মানসিক স্বাস্থ্য একটি বড় ব্যাপার। এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। শৈশব ও কৈশোরে এটি বিশেষভাবে সত্য, যখন আমরা আমাদের পুরো জীবনের জন্য মানসিক বিকাশ ও শেখার সক্ষমতা, আবেগময় জ্ঞান ও চাপের মুখে টিকে থাকার ভিত্তি তৈরি করি। আবার শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠী যে কতটা ঝুঁকিতে আছে, এ মহামারি ঠিক সেটাই তুলে ধরেছে।

সর্বত্রই কভিড-১৯ শিশুদের জীবন ওলট-পালট করে দিয়েছে, স্কুলে যাওয়া ও ঘরের বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করার মতো আনন্দময় ও পরিচিত ছকবাঁধা জীবনকে ব্যাহত করেছে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে লকডাউন তাদের সামাজিক ও সমবয়সীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা জীবনের এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর পরিবারে সহিংসতা, অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হয়ে ট্রমাগ্রস্ত শিশুদের ক্ষেত্রে লকডাউন অনেককে বন্ধ দরজার পেছনে আটকে দিয়েছে, যেখানে তাদের নির্যাতনকারীদের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে তারা স্কুল, তাদের বর্ধিত পরিবার ও কমিউনিটির কাছ থেকে সাহায্য পেলেও এক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাহায্য পাচ্ছে না। কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী ৯৩ শতাংশ দেশে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত বা বন্ধ করেছে।

এই প্রভাবগুলো এরই মধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে। আমার আগের চিঠিতে আমি ১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত ব্যাধির বৃদ্ধি সম্পর্কে লিখেছিলাম, যে বয়সটি একজন তরুণের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। সব মানসিক ব্যাধিগুলোর অর্ধেকই ১৫ বছর বয়সের আগে দেখা দেয় এবং ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি দেখা দেয় মানুষের যৌবনের শুরুর দিকে। প্রতিবছর আত্মহত্যায় মারা যাওয়া আট লাখ মানুষের বেশিরভাগই তরুণ এবং ১৫-১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ আত্মক্ষতি। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আত্মসম্মান ও বৈষম্যের কারণে অনেক বেশিসংখ্যক শিশু ও তরুণ নিপীড়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় সাহায্য খোঁজে না। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য খাতে প্রায় সর্বত্রই কম ব্যয় করা হয় এবং এক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই আরও বেশি কিছু করতে হবে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোয় স্বাস্থ্য বাজেটের এক শতাংশেরও কম মানসিক স্বাস্থ্যের পেছনে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে শিশু ও তরুণরা তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য যে পরিমাণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তা বিবেচনায় নিলে এই মহামারি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কথা বলার এবং শেখার একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..