সম্পাদকীয়

মানহীন পণ্য ঠেকাতে স্থায়ী পদক্ষেপ নিন

দেশে মানসম্মত ঘি হিসেবে বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ড ভোক্তাদের অতি প্রিয়। ‘নিউ’ হোক আর ‘সুপার’ হোক, ঘিয়ের বাজারে বড় হিস্যা তাদের। নামেই চলে তাদের ব্যবসা। বাজারে নকল ও ভেজাল ঘি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খাঁটি ঘি উৎপাদনকারীরা এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত বছর বাজারে পণ্য যাচাইয়ে শুরু করে মান যাচাইকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষায় নি¤œমান প্রমাণিত হওয়ায় ৫২টি খাদ্যপণ্য। এর মধ্যে ছিল ‘অনিল ঘোষের বাঘাবাড়ী স্পেশাল গাওয়া ঘি’। উচ্চ আদালতের নির্দেশে র?্যাব-৩ ও বিএসটিআই’র একটি দল রাজধানীর গোড়ানে অবস্থিত ওই ঘিয়ের কারখানায় অভিযান চালায়। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ঘি উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত রাখা এবং ঘিয়ের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানা মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। মান নিয়ন্ত্রণে কোনো যন্ত্র নেই কেনÑএ প্রশ্নে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তখন বলেছিলেন, ‘আমি চোখ দিয়ে দেখলেই বলতে পারি গুণগত মান কেমন।’ 

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কোনো পণ্য উৎপাদন করে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘি সংগ্রহ করে প্যাকেটজাত করে। এতে প্রতীয়মান হয়, ভোক্তাসাধারণ প্যাকেটের কারণেই আস্থা রেখেছেন বাঘাবাড়ি ঘি-তে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, মানহীন পণ্য বাজারজাত করা থেকে সরে আসতে পারেনি ‘বাঘাবাড়ি’ বিভিন্ন স্বত্বাধিকারী। গতকাল শেয়ার বিজে ‘ঘি বিক্রিতে জালিয়াতি, নিউ বাঘাবাড়িকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা’

শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ট্রেড লাইসেন্স ঘি প্যাকেজিং ও সরবরাহের, কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা ঘি সংগ্রহ করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তা নিজেদের বলে বিক্রি ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান নিউ বাঘাবাড়িকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চটকদার বিজ্ঞাপন ব্যবহার এবং জাতীয় পতাকার সিল ব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়া ঘি রপ্তানি করে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে ‘নিউ বাঘাবাড়ি’র মালিক সমির ঘোষের বিরুদ্ধে।

আমরা মনে করি, বারবার ভেজাল ও মানহীন পণ্য বাজারজাত করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বাঘাবাড়ি ঘি মালিকরা। কোনোভাবেই তাদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। বাজারজাতকৃত ঘিয়ের প্যাকেটে পুষ্টিগুণের কথা মুদ্রিত থাকে অথচ পুষ্টিগুণের ল্যাব টেস্ট হয়নি। ঘিয়ের মতো একটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিংও করা হয় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে ঘি রপ্তানি করা হয় বলে স্টিকারও ছাপা হয়।

কেবল বাঘাবাড়ি নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মানহীন ও ভেজাল পণ্য বাজারজাত করছে। এতে ভোক্তারা যেমন প্রতারিত হয়, রাষ্ট্রও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ভেজাল পণ্য বাজারজাতকারীদের প্রতিরোধে নিয়মিত  তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..