সারা বাংলা

মারমা তরুণ-তরুণীরা মেতল মৈত্রী পানিবর্ষণে

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান: বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই ঘিরে মৈত্রী পানিবর্ষণ খেলায় মেতেছে তরুণ-তরুণীরা। শুধু উৎসবস্থল নয়, পাহাড়ি পল্লিগুলোতে জলকেলি উৎসবে মেতেছে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং পাহাড়ি নারী-পুরুষ। গতকাল সোমবার বিকালে সাংগ্রাই উৎসবের তৃতীয় দিনে স্থানীয় রাজারমাঠে অংশগ্রহণকারীদের গায়ে পানি ঢেলে জলকেলি বা মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।
এদিকে উদ্বোধনের পর সাংগ্রাই উৎসবের মূল আকর্ষণ জলকেলি বা মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে মারমা তরুণ-তরুণীরা। জেলা শহরের বিভিন্ন পল্লিগুলোর তরুণ-তরুণী ১৮টি দলে বিভক্ত হয়ে পানি খেলায় অংশ নেয়। এ উৎসবের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছেÑবিবাহিতরা এতে অংশ নিতে পারে না। এ উৎসবে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভাবের আদান-প্রদান করে। এ উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতা দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত লোক ভিড় জমায় রাজার মাঠে। এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমায় উৎসবে। অন্যদিকে মাঠের অপরপাশে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাচে-গানে মাতিয়েছেন পাহাড়ের নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা। খুদে শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা মুগ্ধ করছে দর্শকদের। এছাড়া তৈলাক্ত বাঁশের উপরে উঠা, বলিখেলাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়।
মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলায় অংশ নেওয়া মেনুচিং, লিলি প্রু, অংথোয়াই মং, হ্লাগ্যচিং জানান, মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে সাংগ্রাই। এ উৎসবে তারা মৈত্রী পানি বর্ষণের মাধ্যমে অতীতের সব অমঙ্গল, দুঃখকষ্টগুলো ভুলে গিয়ে ধুয়ে-মুছে পুরোনো বছর বিদায় এবং নতুন বছর বরণ করেন। পানি খেলা ছাড়াও এ উৎসবে পিঠা তৈরি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, ক্যায়াং ক্যায়াংএ ছোয়াইং দান, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বালন এবং ধর্মীয় প্রার্থণা করা হয়।
সাংগ্রাই উৎসব আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কোকোচিং জানান, মৈত্রী পানি বর্ষণের পর রাতের বেলা পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতা, হাজারো প্রদ্বীপ প্রজ্বালন করা হবে। আজ মঙ্গলবারও পানি খেলা, পাহাড়ি পল্লিগুলোতে হরেক রকমের পিঠা তৈরি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..