কোম্পানি সংবাদ

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ১৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা খাতের কোম্পানি মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ছয় কোটি ৭৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর আট দশমিক এক শতাংশ বা ২ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩১ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে আট লাখ পাঁচ হাজার ৪৮১টি শেয়ার মোট ৫৮৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩১ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৮ টাকায় ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ১১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯৬ পয়সা। আর ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরেও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে এক টাকা ২৯ পয়সা এবং এনএভি ১৮ টাকা ছয় পয়সা, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৪০ পয়সা ও ১৭ টাকা ৩৬ পয়সা। ২০১৭ সালে মুনাফা হয়েছে পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর ছিল ছয় কোটি পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বিমা খাতের কোম্পানিটি ২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৬ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট চার কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৩৩ দশমিক দুই শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ার।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন চার কোটি ৫৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৬১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৬৮ পয়সা। ওই সময় মোট মুনাফা করে ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ১৫ শতাংশ বা দুই টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৫২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫২ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে আট লাখ ৩১ হাজার ১২টি শেয়ার মোট ৭৭১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫০ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৬১ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরেও ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছরের সমান। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৫৩ পয়সা ও ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছিল ৩৮ টাকা ৮৬ পয়সা। যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৩৬ পয়সা ও ৩৭ টাকা ৩৩ পয়সা। ২০১৭ সালে মুনাফা করেছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর ছিল ১৪ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৮১ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট চার কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ১৪৪টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৪ দশমিক ৪৯ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৬ দশমিক ৭৬।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৩ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে হয়েছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ছয় হাজার টাকার শেয়ার।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর চার দশমিক ৬১ শতাংশ বা এক টাকা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২২ টাকা ৬০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৮৯৯টি শেয়ার মোট এক হাজার ৬৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ৬৮ হাজার টাকা। ওইদিন দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৩ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১২ টাকা থেকে ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৮ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ছয় কোটি ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ১২২টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৬ দশমিক ছয় শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ২১ দশমিক চার শতাংশ, বিদেশি শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..