দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

মার্জিন ঋণ বিতরণে আবারও পরিবর্তন এনেছে বিএসইসি

১: ১ হারে ঋণ পাবেন না বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্জিন ঋণ বিতরণের নির্দেশনায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১: ০.৭৫। অর্থাৎ গ্রাহকের নিজস্ব এক টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ০.৭৫ টাকা মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ এক টাকার বিপরীতে এক টাকা ঋণ পাবেন না বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে নতুন নির্দেশনায় ৪০০১-৭০০০ পর্যন্ত সূচকের ক্ষেত্রে ১: ০.৫০ হারে এবং ৭০০০-এর উপরে সূচকের ক্ষেত্রে ১: ০.২৫ হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারবে বলে বলা হয়েছে। বিএসইসির এই নতুন নির্দেশনা আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা মার্জিন ঋণ প্রদানের নির্দেশনায় পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেখানে বলা হয়েছিল, ডিএসইএক্স সূচক চার হাজারের নিচে থাকাকালীন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১:১ হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারবে। আর ৪০০১-৫০০০ পর্যন্ত সূচকের ক্ষেত্রে ১:০.৭৫ হারে, ৫০০১-৬০০০ পর্যন্ত সূচকের ক্ষেত্রে ১:০.৫০ হারে এবং ৬০০০-এর ওপরে সূচকের ক্ষেত্রে ১:০.২৫ হারে মার্জিন ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া কথা ছিল। বর্তমানে মার্জিন ঋণ প্রদানের সর্বোচ্চ হার ১: ০.৫০ এবং সবক্ষেত্রে এই একই। অর্থাৎ গ্রাহকের নিজস্ব এক টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা মার্জিন ঋণ দেওয়া যায়।

এদিকে মার্জিন ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা করছেন কিছু বিনিয়োগকারী। এ ধরনের কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রয়োজনে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে নির্দিষ্ট অর্থ জমা করে তার বিপরীতে ঋণ নিয়ে নতুন করে শেয়ার ব্যবসা করতে চান তারা। তবে বিষয়টিতে দ্বিমত পোষণ করেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, মার্জিন ঋণের ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের অনেক বেশি সতর্ক থাকা দরকার। কারণ কোনো কারণে বাজার পরিস্থিতি পাল্টে গেলে কিংবা পতন দেখা গেলে মার্জিনধারী বিনিয়োগকারীই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ২০১০ সালের ধসে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়েছেন, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

পূর্বে পুঁজিবাজারে পতনের জের ধরে এখনও লোকসানে রয়েছেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। এদিকে এখনও বাজারে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়যোগ্য অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থাকে বিনিয়োগের যোগ্য সময় মনে করেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তারা।

বর্তমানে মার্জিন ঋণের অনুপাত দশমিক পাঁচ। অর্থাৎ এক লাখ টাকা থাকলে ওই বিনিয়োগকারীকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে ঋণপ্রবাহ নির্ভর করছে হাউস কর্তৃপক্ষের ইচ্ছার ওপর। কোনো কোনো হাউসে ঋণের হার শূন্য দশমিক ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক লাখ টাকায় একজন বিনিয়োগকারী ২৫ হাজার টাকা ঋণ পাবেন। আর এ ঋণের বিপরীতে সুদ গুনতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ হারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ঋণের অনুপাত বিভিন্ন রকমের, যেখানে সুদ হিসাবে নেওয়া হচ্ছে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে তিন শতাংশ সার্ভিস চার্জ। অর্থাৎ যিনি ১১ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছেন, তার সুদ (সার্ভিস চার্জসহ) গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১৪ শতাংশ। আর যিনি ১৫ শতাংশ হারে ঋণ নিচ্ছেন, তার সুদ হচ্ছে ১৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত উচ্চমূল্যে ঋণ নিয়ে তা দিয়ে ব্যবসা করে লাভবান হওয়া কষ্টকর। তাই বিনিয়োগকারীদের নিজের টাকায় ব্যবসায় করা উত্তম।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, সূচকের সঙ্গে মার্জিন ঋণের একটি ছক বেঁধে দেওয়া হযেছে। এটা ভালো সিদ্ধান্ত। এতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। কারণ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার ঝুঁকি বেশি। এ ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্যই বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..