প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অঙ্গ। ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে যদি এই আয়-প্রবাহে অনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয় এবং শ্রমিকদের জিম্মি করে দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়, তাহলে এই দুুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বিলম্বে হলেও তেমনই একটি পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ৬০ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও কর্মকর্তাসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে ৬০টি মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব ও বায়রার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাচক্র ব্যবহার করে এই খরচকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।
বিগত সরকারের আমলে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশে শ্রমপ্রত্যাশী মানুষের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করেছিল। দুই দেশের সরকারের চুক্তিনীতি ভঙ্গ করে বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে এই সব অর্থ আদায় করা হয়। শ্রমিকরা অনেকে উপার্জনের আশায় বাধ্য হয়ে বেশি অর্থ দিয়ে বিদেশে গেছেন। একপর্যায়ে মালয়েশিয়া সরকার এই চরম অনৈতিকতার দায়ে বাংলাদেশে থেকে জনশক্তি আমদানি বন্ধ করে দেয়। এই ঘটনাকে তৎকালীন সরকারের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বায়রার একটি সঙ্ঘবদ্ধ গোষ্ঠী জায়েজ করে নেয়। কয়েক হাজার শোষিত শ্রমিকের আর্তনাদ কারও কর্ণগুহরে পৌঁচ্ছায়নি।
ওই সময় ৪০টি ওভারসিজ কোম্পানির স্বত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালকসহ ১০৮ জনের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪০টি মামলা করা হয়েছে; যা বর্তমানে তদন্তাধীন। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় ১০০টি পৃথক মামলা হয়, আসামি করা হয় ২৩২ জন। আর আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তখন প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক চক্রের কারণে কোনো মামলা করা যায়নি।
আশার কথা যে, বিলম্বে হলেও বর্তমান সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যারা প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ উপার্জনের ইচ্ছাকে বাধাগ্রস্ত করে রেমিট্যান্স আসার পথকে রুদ্ধ করতে দ্বিধাবোধ করেনি, তাদের কোনোভাবে ছাড় দেয়া উচিত নয়। যে কোনো মূল্যে এই মহলের ন্যায্য শাস্তির বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। যেন আর কখনও কোনো মহল এই ধরনের দেশবিরোধী কার্যক্রম চালাতে না পারে।
আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভাবিত হয়ে যেন প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে সহায়তা না করে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে, অপরাধী লুটেরাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দেশ উন্নয়নের সঠিক পথে এগিয়ে যাবেÑআমরা এটাই প্রত্যাশা করি।
প্রিন্ট করুন


Discussion about this post