সম্পাদকীয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সুযোগ কাজে লাগান

আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। দেশের অভ্যন্তরে বিপুল কর্মক্ষম বেকার ও ছদ্মবেকারের কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। আমাদের বড় শ্রমবাজারের একটি ছিল মালয়েশিয়া। কিন্তু বাজারটি অনেকদিন আমাদের জন্য বন্ধ ছিল। আশার কথা হলোÑদেশটির শ্রমবাজার ফের চালু হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করি।

এ বিষয়ে গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মাস থেকেই দেশটিতে কর্মী পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। বুধবার মালয়েশিয়ায় দুই দেশের মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। এমন খবর কেবল পাঠকের মনোযোগ কাড়বে না, বরং কর্মসংস্থানের চেষ্টায় দৌড়ঝাঁপ করা বেকার তরুণদের মনে আশার সঞ্চার করবে বৈকি।

মালয়েশিয়ায় আমাদের শ্রমবাজার নতুন নয়। কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ও জালিয়াতির কারণে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। এ বাজার ধরে রাখতে অসাধু এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। অবৈধভাবে বিদেশ যেতে সহায়তাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করলেই দেশটির আস্থা ধরে রাখা সম্ভব।

সংঘবদ্ধ চক্রের অনৈতিকতার অভিযোগে গত জুনে বাংলাদেশ থেকে বিদ্যমান পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো বন্ধের ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া যেতে সিস্টেম পারমোহনান পেকিরজা এজিংÑএসপিপিএ (যা ‘জিটুজি প্লাস’ নামে পরিচিত) চালু করা হয়। তাতে দেশটিতে শ্রমিক পাঠাতে বাংলাদেশের ১০টি এজেন্সি নির্ধারণ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু এসব এজেন্সি বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত করে দেশটি। সংঘবদ্ধ চক্রের ব্যবসায় শ্রমিকরা প্রতারিত হয়েছে, রাজস্ববঞ্চিত হয়েছে উভয় দেশই। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ওই সময় পরিবারের সদস্যদের জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বর্তমান মন্ত্রীকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সরাসরি জড়িত না থাকলেও মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসাটি সব এজেন্টের জন্য খুলে দেওয়া গেলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং জনশক্তি রফতানির খরচও কমবে। এর সুফল পাবেন নিরীহ কর্মীরা, যাদের অনেকেই ভিটেমাটি বিক্রি করে কিংবা উচ্চসুদে ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাড় করেন। কোনো দেশে জনশক্তি রফতানির নতুন খবরে একশ্রেণির জনশক্তি রফতানিকারক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা লোভ দেখিয়ে নিরীহ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। নতুন করে কোনো অঘটনের কারণে যেন বাজারটি বন্ধ হয়ে না যায়, সেদিকে কড়া নজরদারিও জরুরি। PL�z��/

সর্বশেষ..