প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মালিকানা পরিবর্তনে রাতারাতি উন্নতি হয় না: মনস্তাত্ত্বিক কারণে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সাধারণভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির আর্থিক সংবেদনশীল কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে বা কমে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারদর বাড়াকমার এ প্রধান নির্দেশকের কোনো ধারই ধারছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। দেখা যাচ্ছে, কোনো কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের খবরেও তারা ওই কোম্পানির প্রতি ঝুঁকছেন। অথচ সবাই জানেন, মালিকানা পরিবর্তন মানে কিন্তু কোম্পানির মৌলভিত্তির পরিবর্তন নয়। বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের প্রবণতাকে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক’ কারণ বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সর্বশেষ মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার খবর রয়েছে সেন্ট্রাল ফার্মার। এ কোম্পানিটির পাঁচ শেয়ারধারী পরিচালকের সব শেয়ার কিনে নেবে ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলামের মালিকানাধীন আলিফ গ্রুপ। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা আলিফ গ্রুপের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তির পর সেন্ট্রাল ফার্মার পরিচালকদের সব শেয়ার ব্লক মার্কেট থেকে কিনে নেবে আলিফ গ্রুপ। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার আগেই বাজারে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাড়তে থাকে এর শেয়ারের দর। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর টানা বাড়ছে। ২৫ টাকা থেকে দর বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ টাকায়।

একইভাবে গত বছরের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে রহিমা ফুডের মালিকানা পরিবর্তনের খবর। এ খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে

শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে। অল্পদিনের ব্যবধানে দর ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় চলে আসে।

এর আগে বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিএমসি কামাল ও পাট খাতের কোম্পানি নর্দার্ন জুটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। কোম্পানি দুটির মালিকানায় পরিবর্তন আসছেÑএমন গুজবে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী এসব কোম্পানিতে ঝুঁকে পড়েন।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসায় এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরে বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়। বোর্ডে পরিবর্তন আসবে এ খবরে টানা বাড়তে থাকে এ শেয়ারের দর। কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ারের দর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকায় লেনদেন হয়। বর্তমানে এ শেয়ারের দর কমে ৪২ টাকায় চলে এসেছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমা বা বাড়া নির্ভর করে সেই কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ওপর। কোম্পানি যদি ব্যবসায় ভালো করে, তবে এর প্রভাব কোম্পানির শেয়ারের দরে পড়তে পারে। পাশাপাশি বেশি মুনাফা হলে কিংবা ইপিএস বাড়লে

 

সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার যৌক্তিক কারণ হতে পারে। এছাড়া কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ যদি বাড়ে অথবা কোম্পানি যদি নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনে কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণ করে তাহলে ওইসব কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়তে পারে। কিন্তু

মালিকানা পরিবর্তন কোনো সংবেদনশীল তথ্য নয়। এ ধরনের খবরে শেয়ারের দর বাড়ার কোনো যুক্তি নেই।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা উচিত কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখে। আমার মতে, মালিকানা পরিবর্তন কোনো সংবেদনশীল তথ্য নয়। বিনিয়োগকারীদের একটি কথা মনে রাখা দরকার, মালিকানা পরিবর্তন হলেই কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির এনএভি, ইপিএস বা অন্য কোনো কিছুতে পরিবর্তন আসে না।’

একই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘অনেক কোম্পানি নিজেরাই মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে, এমন গুজব রটিয়ে শেয়ারের দর বাড়াতে চান। এটা তাদের একটি ফাঁদ। বেশিরভাগ সময়ই এসব খবর সঠিক হয় না। সেই জন্য এসব গুজবে কান না দেওয়াই শ্রেয়। তাছাড়া মালিকানা পরিবর্তন হলেই রাতারাতি কোম্পানির অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যাবে এটা ভাবাও ঠিক নয়। বরং নতুন মালিকের কাছে গিয়ে কোম্পানিটি কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’